ভুবন / উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ
ভুবন · Life
উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ
গাছ, প্রাণী ও মানবদেহ
আমার অগ্রগতি
করে দেখোগাছের প্রতিটি অংশ তার নিজের জায়গায় বসানো। প্রথম স্লাইডার টানলে চারা থেকে পূর্ণ গাছ হয়ে ওঠে, আর খুলে দেখো টানলে মূল, কাণ্ড, ছাল, শাখা, পাতা, ফুল, ফল সব আলাদা হয়ে বেরিয়ে আসে; যেকোনো অংশে ক্লিক করলে তার কথা খোলে।
খোঁজার খেলা শেষ
★★★
দারুণ!
গোল ছবিগুলোয় ক্লিক করো · টেনে ঘোরাও · খুলে দেখো টানো
ধারণা বোঝানোর মডেল · মাপ ও দূরত্ব একই অনুপাতে নয়
আমগাছের ৩ডি মডেল: stealth86-এর “Mango Tree” · CC BY 4.0 তালগাছের ৩ডি মডেল: P.S.Thng-এর “Palmyra” · CC BY 4.0 · উৎসে এটিকে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট তালগাছের মাঠ-স্ক্যান বলা হয়নি এলাচের ফল ও বীজের বাটির ৩ডি মডেল: go3452-এর “Cardamom Bowl” · CC BY 4.0 · উৎসে AI-সহায়তায় তৈরি বলা হয়েছে; এটি এলাচের গাছ বা বাস্তব নমুনার স্ক্যান নয় বাঘের চলমান ৩ডি মডেল: Amil (francescolima74)-এর “Running Tiger” · CC BY 4.0 · উৎসে বাঘ বলা হয়েছে; রয়েল বেঙ্গল উপপ্রজাতি আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি সুন্দরবনের নোনা পানির কুমিরের ৩ডি মডেল: VoltVeigh-এর “HSW Saltwater Crocodile” · CC BY 4.0 · প্রজাতির উদাহরণ, সুন্দরবনের নির্দিষ্ট প্রাণীর স্ক্যান নয়; ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার সংকুচিত নিমগাছের ৩ডি মডেল: Rohit Pawar-এর “Neem Tree” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার ছোট করা হয়েছে ধানের উদাহরণ ৩ডি মডেল: ffish.asia · “Rice (Oryza sativa)” · CC0 1.0 অ্যালোভেরার ৩ডি স্ক্যান: matousekfoto-এর “Aloe vera plant” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য সরলীকৃত তুলসী গাছের ৩ডি স্ক্যান: Prakash.Chatterjee-এর “Tulsi Tree on a cement tub” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার ছোট করা হয়েছে কাঁঠালের ৩ডি নমুনা: RISD Nature Lab-এর “Jackfruit Pod” · CC BY 4.0 · জাদুঘরের ফলের নমুনার স্ক্যান, কাঁঠাল গাছ নয় বটগাছের গোড়া ও ঝুরি-শিকড়ের ৩ডি স্ক্যান: Jimmy Gunawan-এর “BANYAN TREE” · CC BY 4.0 · ১২টি ছবি থেকে তৈরি ফটোগ্রামেট্রি; পুরো গাছ নয়, নির্দিষ্ট বাংলাদেশি গাছ বলেও দাবি নয় শিমুল (Bombax ceiba) গাছের ৩ডি স্ক্যান: Yu Kai Him Otto-র “Bombax ceiba L Roadsite Tree” · CC BY 4.0 · বাস্তব রাস্তার পাশের গাছের স্ক্যান; ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার ছোট করা হয়েছে গোলপাতার ফলগুচ্ছের ৩ডি মডেল: zefruitlivingbeingidk-এর “Nypa fruticans” · CC BY 4.0 · ফলগুচ্ছের ডিজিটাল নমুনা, পুরো গাছ নয়; তথ্য: Kew Plants of the World Online শাপলা বোঝাতে Nymphaea গণের একটি জললিলির ৩ডি মডেল: ffish.asia / floraZia.com-এর “Water Lily, Nymphaea cv.” · CC0 1.0 · ওয়েবের জন্য সরলীকৃত; এটি শাপলার নির্দিষ্ট স্থানীয় জাতের স্ক্যান নয় কৃষ্ণচূড়া (*Delonix regia*)-এর ৩ডি মডেল: PlantCatalog-এর “Realistic HD Royal poinciana (15/40)” · CC BY 4.0 · জ্যামিতি সরল ও টেক্সচার সংকুচিত; উৎসের মডেলটি স্থির, অ্যানিমেশন নেই দাঁড়িপাল্লার ৩ডি মডেল: Jean-Francois.Bonin-এর “Balance Scale” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য সরল ও সংকুচিত; স্থির মডেল হলুদের কাঁচা রাইজোম (মাটির নিচের কাণ্ড)-এর ৩ডি স্ক্যান: Keeszify-এর “Turmeric Root” · CC BY 4.0 · এটি কাঁচা রাইজোম, সম্পূর্ণ হলুদ গাছ বা গুঁড়া নয় শুকনো দারুচিনি-ছালের ৩ডি স্ক্যান: sfsen-এর “3d scanned Cinnamon stick” · CC BY 4.0 · এটি শুকনো ছাল, জীবন্ত গাছ বা গুঁড়া নয় পুদিনা পাতার গুচ্ছের ৩ডি মডেল: Zinaida.Kovrova-এর “Mint Leaves” · CC BY 4.0 · এটি পাতার নমুনা, সম্পূর্ণ পুদিনা গাছ নয় ভাতের বাটির ৩ডি মডেল: Frid.blend-এর “Rice in bowl” · CC BY 4.0 · শর্করার উদাহরণ হিসেবে রান্না করা ভাত; ডাল নয় ভাজা মাছের সাধারণ ফটোগ্রামেট্রি ৩ডি স্ক্যান: wox080xow-এর “Ikan Goreng” · CC BY 4.0 · এটি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট মাছের জাত বা রেসিপির নমুনা নয় গঙ্গা নদীর শুশুকের কঙ্কাল-স্ক্যান, নমুনা C 272: Patrizia17 ও পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের স্ক্যান · CC BY-SA 4.0 · ওয়েবের জন্য STL থেকে GLB-তে রূপান্তর ও জ্যামিতি সরল করা হয়েছে · এটি কঙ্কাল, জীবন্ত শুশুক নয় লাল মরিচের ৩ডি স্ক্যান: Muhammad Azim-এর “Red Chilli — 3d Scan” · CC BY 4.0 · এটি একটি মরিচের ফল, মরিচগাছ নয় সাদা-গলা মাছরাঙার ৩ডি স্ক্যান: RISD Nature Lab-এর “White-throated Kingfisher” · CC BY 4.0 · স্ক্যানটি ট্যাক্সিডার্মি নমুনার; পাখিটি জীবিত বা ওড়ার ভঙ্গিতে নয় এশীয় হাতির ৩ডি মডেল: planeta-elefante-এর “Asian Elephant” · CC BY 4.0 · ওয়েব ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করা GLB; উৎসে আলাদা চলার ও পানি ছিটানোর অ্যানিমেশনও রয়েছে স্টপওয়াচের ৩ডি মডেল: mantledmoon-এর “Soviet Stopwatch” · CC BY 4.0 · পুরোনো যান্ত্রিক স্টপওয়াচের উদাহরণ ব্যারোমিটারের ৩ডি মডেল: darkmoral-এর “Barometer” · CC BY 4.0 · পুরোনো অ্যানেরয়েড ব্যারোমিটারের একটি উদাহরণ এখানে চিকিৎসায় ব্যবহৃত কাচের মৌখিক থার্মোমিটারের উদাহরণ: Medical.Gallery Graphics-এর “Thermometer” · CC BY 4.0 · এটি আবহাওয়া বা ডিজিটাল থার্মোমিটার নয় পতঙ্গ বোঝাতে একটি মৌমাছির ৩ডি নমুনা: Pasha-এর “Realistic bee”, Irfan-এর মূল “Bee” মডেলের ভিত্তিতে · উভয় তালিকায় CC BY 4.0 · এটি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট মধুমক্ষিকা প্রজাতির দাবি নয়; ওয়েবের জন্য ছোট করা হয়েছে শিয়ালের ৩ডি মডেল: 1DesignTool-এর বাণিজ্যিক ওয়েব-ব্যবহারের লাইসেন্সে · মডেল ও লাইসেন্স প্যান্থার গিরগিটির ৩ডি নমুনা · মডেল ও লাইসেন্স · চোখের তথ্য: Smithsonian National Zoo · এটি বাংলাদেশি প্রজাতির উদাহরণ নয় ভারতীয় ময়ূরের ৩ডি নমুনা · মডেল ও লাইসেন্স · পেখমের তথ্য: San Diego Zoo · এটি বাংলাদেশের পাখির তালিকার অংশ নয় অ্যাক্সোলটলের ৩ডি নমুনা · মডেল ও লাইসেন্স · ফুলকার তথ্য: San Diego Zoo · এটি বাংলাদেশের প্রাণী নয় অক্টোপাসের ৩ডি মডেল: rayleighsyafiq-এর “Octopus” · CC BY 4.0 · এটি অমেরুদণ্ডী প্রাণীর একটি উদাহরণ, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট প্রজাতি নয় · তথ্য: Smithsonian Ocean সবুজ সামুদ্রিক কাছিম (*Chelonia mydas*)-এর ৩ডি নমুনা: jgrabo20-এর “Green Sea Turtle” · CC BY 4.0 · এটি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো কাছিমের স্ক্যান নয় · তথ্য: বাংলাদেশের সরীসৃপ লাল তালিকা (২০১৪ মূল্যায়ন) ও NOAA Fisheries
খুলে দেখার সূত্র
মজার তথ্য
বিভাগ ০১
গাছের অংশ
পর্দায়গাছের প্রতিটি অংশ তার নিজের জায়গায় বসানো। প্রথম স্লাইডার টানলে চারা থেকে পূর্ণ গাছ হয়ে ওঠে, আর খুলে দেখো টানলে মূল, কাণ্ড, ছাল, শাখা, পাতা, ফুল, ফল সব আলাদা হয়ে বেরিয়ে আসে; যেকোনো অংশে ক্লিক করলে তার কথা খোলে।
নিচের যেকোনোটিতে ক্লিক করো - ডানে তার পুরো কথা খুলবে
এই ভুবনে তোমার যাত্রা সবে শুরু।
বাকি ১০টি ভুবন
বড়দের জন্য: পসরা পরিবার · স্কুলের জন্য · প্রশ্ন বা পরামর্শ
সবকিছু এক জায়গায়
উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ ভুবনের পুরো তালিকা
৮টি বিভাগ, ৮৪টি বিষয়। নিচের যেকোনো শিরোনামে চাপলে ছোট লেখাটা খুলবে। “মডেলে কাছে গিয়ে দেখো” চাপলে উপরের দৃশ্যে সেই বিষয়টি আলাদা করে বড় হবে।
বিভাগ ০১গাছের অংশ ৯টি
গাছের প্রতিটি অংশ তার নিজের জায়গায় বসানো। প্রথম স্লাইডার টানলে চারা থেকে পূর্ণ গাছ হয়ে ওঠে, আর খুলে দেখো টানলে মূল, কাণ্ড, ছাল, শাখা, পাতা, ফুল, ফল সব আলাদা হয়ে বেরিয়ে আসে; যেকোনো অংশে ক্লিক করলে তার কথা খোলে।
মূলমাটির নিচে
মূল গাছের মাটির নিচের অংশ, যা গাছকে মাটিতে শক্তভাবে ধরে রাখে আর মাটি থেকে পানি ও খনিজ শোষণ করে।
মজার তথ্যবটগাছের ঝুরি আসলে আকাশ থেকে নেমে আসা এক ধরনের বাড়তি মূল, যা মাটিতে পৌঁছে নতুন কাণ্ডের মতো গাছকে আরও চওড়া করে দেয়।
কাণ্ডগাছের দণ্ড
কাণ্ড গাছের প্রধান দণ্ড, যা গাছকে সোজা দাঁড় করিয়ে রাখে আর মূল থেকে পাতা পর্যন্ত পানি বহন করে।
মজার তথ্যবাঁশের কাণ্ড ভেতরে ফাঁপা হলেও এত শক্ত যে ঘর বানানোর কাঠামো থেকে শুরু করে সাঁকো পর্যন্ত বানানো যায়, আর এটা পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা উদ্ভিদগুলোর একটা।
পাতাখাদ্য তৈরির কারখানা
পাতা গাছের সবুজ অংশ, যেখানে সূর্যের আলো ব্যবহার করে গাছ নিজের খাদ্য তৈরি করে।
মজার তথ্যশরৎ-হেমন্তে কিছু গাছের পাতা হলুদ বা লাল হয়ে যায়, কারণ তখন সবুজ ক্লোরোফিল ভেঙে যায় আর পাতায় লুকিয়ে থাকা অন্য রং প্রথমবার চোখে দেখা যায়।
ফুলবংশবিস্তারের অংশ
ফুল গাছের সেই অংশ, যা পরাগায়নের মাধ্যমে বীজ তৈরির কাজ শুরু করে - এটাই গাছের বংশবিস্তারের মূল অংশ।
মজার তথ্যইন্দোনেশিয়ার র্যাফলেসিয়া ফুল ব্যাসে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে, আর পচা মাংসের মতো গন্ধ ছড়িয়ে মাছি আকর্ষণ করে পরাগায়ন করায়।
ফলবীজকে ঘিরে থাকা অংশ
ফল হলো ফুলের সেই অংশ যা পরাগায়নের পর বেড়ে ওঠে আর ভেতরে বীজকে রক্ষা করে।
মজার তথ্যসবজি হিসেবে পরিচিত টমেটো, শসা, লাউ আসলে উদ্ভিদবিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুযায়ী ফল, কারণ এগুলো ফুলের বেড়ে ওঠা অংশ আর এতে বীজ থাকে।
বীজনতুন গাছের শুরু
বীজের ভেতরে একটা ছোট্ট নতুন গাছের প্রাথমিক অংশ (ভ্রূণ) লুকানো থাকে, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে যা থেকে নতুন গাছ জন্ম নেয়।
মজার তথ্য২০০০ বছরেরও বেশি পুরনো একটা খেজুর বীজ (ইসরায়েলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া) সাম্প্রতিক সময়ে রোপণ করা হলে সেটা অঙ্কুরিত হয়ে সত্যিকারের গাছে পরিণত হয়েছিল।
শাখাকাণ্ড থেকে ডাল
শাখা হলো কাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসা ডাল, যার ওপর পাতা, ফুল আর ফল ধরে থাকে।
মজার তথ্যবনসাই গাছে বছরের পর বছর যত্ন করে শাখা ছাঁটাই করে গাছটাকে ছোট্ট আকারে বড় গাছের প্রতিরূপের মতো দেখতে বানানো হয়।
ছালকাণ্ডের বাইরের আবরণ
ছাল গাছের কাণ্ড আর শাখার বাইরের শক্ত আবরণ, যা ভেতরের নরম অংশকে পোকামাকড়, রোগ আর আঘাত থেকে রক্ষা করে।
মজার তথ্যসিকোইয়া গাছের ছাল প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পুরু হতে পারে, যা এই বিশাল গাছকে দাবানলের তাপ থেকেও অনেকটা রক্ষা করে।
শিরাপাতার নলপথ
শিরা পাতার ভেতরের সরু রেখাগুলো, যার মধ্য দিয়ে পানি আর তৈরি হওয়া খাদ্য চলাচল করে।
মজার তথ্যপাতার শিরাগুলো আসলে গাছের নিজস্ব পানি সরবরাহ আর পরিবহন ব্যবস্থা - অনেকটা মানুষের শরীরের রক্তনালীর মতোই কাজ করে, শুধু পানি আর খাদ্য বহন করে।
বিভাগ ০২গাছ কীভাবে বাঁচে ৭টি
স্লাইডার টানলে সূর্যের আলো বাড়ে - গাছ বেশি সবুজ হয়, চারপাশে অক্সিজেন-বুদবুদ ভাসে।
সালোকসংশ্লেষণখাদ্য তৈরি
সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে গাছ সূর্যের আলো, পানি আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে, সাথে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়।
মজার তথ্যএকটা পূর্ণবয়স্ক গাছ দিনে প্রায় একজন মানুষের এক দিনের শ্বাসের সমান অক্সিজেন তৈরি করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা হিসাব করেছেন।
শ্বসনগাছেরও শ্বাস লাগে
গাছও প্রাণীর মতোই শ্বসন করে - এটা খাদ্য (গ্লুকোজ) থেকে শক্তি বের করতে অক্সিজেন ব্যবহার করে, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়ে।
মজার তথ্যরাতে ঘরের ভেতরে অনেক গাছ রাখলে সেগুলো তখন শুধু শ্বসন করে অক্সিজেন কমাতে থাকে, তাই ঘুমানোর ঘরে অতিরিক্ত গাছ না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রস্বেদনপাতা থেকে পানি বাষ্প
প্রস্বেদন হলো পাতার ছোট ছিদ্র দিয়ে গাছের ভেতরের বাড়তি পানি বাষ্প আকারে বাতাসে বেরিয়ে যাওয়া।
মজার তথ্যএকটা বড় গাছ প্রতিদিন শত শত লিটার পানি প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসে ছাড়তে পারে - এই কারণেই বনভূমি এলাকায় বাতাস তুলনামূলক বেশি আর্দ্র থাকে।
পানি টানাশিকড় থেকে পাতায়
গাছ মূলের সূক্ষ্ম মূলরোম দিয়ে মাটি থেকে পানি শোষণ করে, তারপর সেই পানি কাণ্ডের ভেতরের সরু নল দিয়ে ওপরে পাতা পর্যন্ত টেনে নেয়।
মজার তথ্যপৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাছগুলো (যেমন রেডউড) প্রায় ১১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, আর এই পুরো উচ্চতা জুড়ে পানি ওপরে তুলতে কোনো যান্ত্রিক পাম্প লাগে না, শুধু এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই যথেষ্ট।
খাদ্য তৈরিসূর্য থেকে শক্তি
গাছ একমাত্র জীবের দলের একটা, যারা সূর্যের আলো থেকে সরাসরি নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে, প্রাণীদের মতো অন্য কিছু খেতে হয় না।
মজার তথ্যধানগাছ সূর্যের আলো, পানি আর মাটির সামান্য খনিজ থেকে যে খাদ্য তৈরি করে, তার একটা অংশ জমা থাকে চালের দানায় - এভাবেই সূর্যের শক্তি ভাতে পরিণত হয়ে আমাদের পেটে পৌঁছায়।
আলোর দিকে বাঁকাফটোট্রপিজম
গাছ সবসময় সূর্যের আলোর দিকে বেঁকে বাড়তে থাকে, যাতে পাতা বেশি আলো পেয়ে বেশি খাদ্য তৈরি করতে পারে।
মজার তথ্যসূর্যমুখী ফুল শুধু চারার বয়সে সারাদিন সূর্যের দিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখে - এই বৈশিষ্ট্যের নামই এসেছে এখান থেকে, যদিও পূর্ণবয়স্ক ফুল সাধারণত পূর্বমুখী হয়ে স্থির থাকে।
শিকড় কেন ছড়ায়পানি ও স্থিতির খোঁজে
গাছের শিকড় মাটির নিচে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে বেশি জায়গা থেকে পানি ও খনিজ সংগ্রহ করতে পারে আর গাছকে শক্তভাবে ধরে রাখতে পারে।
মজার তথ্যকিছু গাছের শিকড় নিজের কাণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে থাকে - মাটির নিচে এই বিশাল শিকড়জাল অনেক সময় পুরো গাছের ওজনের চেয়েও ভারী হতে পারে।
বিভাগ ০৩জীবনচক্র ও বংশবিস্তার ৯টি
স্লাইডার টানলে ছোট চারা ধীরে ধীরে পূর্ণ গাছ হয়ে ওঠে।
বীজজীবনচক্রের শুরু
গাছের জীবনচক্র শুরু হয় একটা ছোট বীজ থেকে, যার ভেতরে নতুন গাছের প্রাথমিক অংশ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে।
মজার তথ্যনারকেল আসলে একটা বিশাল বীজ, যার ভেতরে জমানো পানি আর খাদ্য (নারকেলের শাঁস) এতটাই বেশি যে সমুদ্রে ভেসে বহুদূর গিয়েও এটা অঙ্কুরিত হতে পারে।
অঙ্কুরোদ্গমবীজ থেকে জেগে ওঠা
অঙ্কুরোদ্গম হলো বীজের ভেতরের ঘুমন্ত ভ্রূণ জেগে উঠে বাইরের দিকে ছোট শিকড় আর কাণ্ড বের করার প্রক্রিয়া।
মজার তথ্যকিছু বীজ মাটিতে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে, দাবানলের মতো ঘটনার পরও কিছু গাছের বীজ বরং তাপ পেয়ে তবেই অঙ্কুরিত হতে শুরু করে।
চারাছোট গাছ
চারা হলো অঙ্কুরিত হওয়া বীজ থেকে জন্ম নেওয়া একটা ছোট, কচি গাছ, যার প্রথম কয়েকটা পাতা সবে গজিয়েছে।
মজার তথ্যনার্সারিতে চারা বড় করে তারপর মূল জমিতে রোপণ করা হয়, কারণ চারা অবস্থায় ছোট জায়গায় বেশি যত্ন দেওয়া সহজ হয়, পরে শক্ত হলে তবেই খোলা মাঠে সরানো হয়।
পূর্ণ গাছপরিণত অবস্থা
চারা বড় হতে হতে একসময় পূর্ণ গাছে পরিণত হয়, যখন এটা নিজে ফুল-ফল ধরতে সক্ষম হয়ে ওঠে।
মজার তথ্যবাঁশ চারা অবস্থা থেকে পূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছাতে আশ্চর্যজনকভাবে দ্রুত সময় নেয় - কিছু প্রজাতির বাঁশ একদিনেই প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বেড়ে উঠতে পারে।
পরাগায়নফুল থেকে ফুলে
পরাগায়ন হলো একটা ফুলের পুরুষ অংশের পরাগরেণু আরেকটা (বা একই) ফুলের স্ত্রী অংশে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া, যা থেকে বীজ তৈরি হয়।
মজার তথ্যবিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য ফসল সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মৌমাছির পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল, তাই মৌমাছির সংখ্যা কমে গেলে খাদ্য উৎপাদনেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মৌমাছিসেরা পরাগায়নকারী
মৌমাছি ফুল থেকে ফুলে মধু আর পরাগরেণু সংগ্রহ করার সময় গায়ে লেগে থাকা পরাগ বহন করে পরাগায়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
মজার তথ্যমৌমাছিরা নাচের মতো একটা বিশেষ গতিভঙ্গি (ওয়াগল ড্যান্স) করে অন্য মৌমাছিদের জানিয়ে দেয় ভালো ফুল কোন দিকে আর কতদূরে আছে।
প্রজাপতিরঙিন পরাগায়নকারী
প্রজাপতি ফুলের মধু খেতে খেতে গায়ে পরাগ লাগিয়ে নেয় আর অন্য ফুলে ছড়িয়ে দেয়, এভাবে পরাগায়নে সাহায্য করে।
মজার তথ্যমোনার্ক প্রজাপতি প্রতি বছর হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে উত্তর আমেরিকা থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত পরিযান করে, যদিও এই যাত্রা সম্পূর্ণ করে সাধারণত তিন-চার প্রজন্মের প্রজাপতি মিলে।
বীজ ছড়ানোনতুন জায়গায় জন্ম
বীজ ছড়ানো মানে গাছ থেকে বীজ দূরে দূরে পৌঁছে দেওয়া, যাতে নতুন গাছ মূল গাছের সাথে খাবার-জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা না করে।
মজার তথ্যকচুরিপানার বীজ পানিতে বছরের পর বছর ভেসে থেকেও অঙ্কুরিত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, এই কারণেই এই উদ্ভিদ এত সহজে নতুন নতুন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
কলম করাবীজ ছাড়াই নতুন গাছ
কলম করা হলো বীজ ছাড়াই একটা গাছের ডাল বা কাণ্ডের অংশ কেটে নতুন গাছ জন্মানোর একটা পদ্ধতি।
মজার তথ্যএকই আম গাছের একাধিক জাত পাওয়ার জন্য একটা মূল গাছের ওপর ভিন্ন ভিন্ন জাতের ডাল কলম করে জোড়া লাগানো যায়, ফলে একই গাছে একাধিক জাতের আম ফলতে পারে।
বিভাগ ০৪বাংলাদেশের গাছপালা ১৪টি
বাংলাদেশের চেনা চোদ্দোটা গাছ পাশাপাশি দাঁড়ানো - আম, কাঁঠাল, বট, তাল, বাঁশ, শাপলা। স্লাইডার টানলে একেকটা সামনে এসে ঘুরতে থাকে, আর যেকোনো গাছে ক্লিক করলে তার কথা খোলে।
আমফলের রাজা
আম বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল, গ্রীষ্মকালে পাকে আর একে "ফলের রাজা" বলা হয়।
মজার তথ্যরাজশাহী আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চল বাংলাদেশে আমের জন্য এতটাই বিখ্যাত যে গ্রীষ্মকালে এই এলাকাগুলোকে প্রায়ই "আমের দেশ" বলা হয়।
কাঁঠালজাতীয় ফল
কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল - এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাছ-জাত ফলগুলোর একটা, ওজনে কয়েক কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
মজার তথ্যকাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে রান্না করা যায়, আবার পাকা কাঁঠাল মিষ্টি ফল হিসেবে খাওয়া হয় - একই ফল দুই ভিন্ন অবস্থায় দুই ভিন্নভাবে ব্যবহার হয় এমন উদাহরণ কম আছে।
বটবিশাল ছায়াবৃক্ষ
বটগাছ বিশাল আকারে বেড়ে ওঠে আর অনেক দূর পর্যন্ত ছায়া দেয়, গ্রামের হাট-বাজার বা পথের ধারে প্রায়ই দেখা যায়।
মজার তথ্যভারতের একটা বটগাছ (গ্রেট বনিয়ান ট্রি) এত ঝুরি ফেলে ছড়িয়েছে যে এটাকে দূর থেকে একটা মাত্র গাছ না মনে হয়ে ছোট একটা বন বলে মনে হয়।
তাললম্বা পাতাযুক্ত গাছ
তালগাছ সোজা, লম্বা আর মাথায় বড় বড় হাত-পাখার মতো পাতাযুক্ত একটা গাছ, বাংলার গ্রামীণ দৃশ্যপটে খুব পরিচিত।
মজার তথ্য"তালপাতার সেপাই" বাংলা প্রবাদে ব্যবহৃত একটা কথা, যেখানে তালপাতা দিয়ে তৈরি খেলনা পুতুলের মতো দুর্বল কাউকে বোঝানো হয়।
শিমুললাল ফুল, নরম তুলা
শিমুল গাছে বসন্তকালে উজ্জ্বল লাল ফুল ফোটে, আর পরে সেই ফুল থেকে তৈরি ফলে নরম তুলার মতো আঁশ পাওয়া যায়।
মজার তথ্যশিমুল ফুল অনেক পাখির প্রিয় খাবারের উৎস - ফুলে জমা মধু খেতে বসন্তকালে অনেক পাখি শিমুল গাছে ভিড় করে।
কৃষ্ণচূড়াগ্রীষ্মের আগুন-রঙা ফুল
কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মকালে টকটকে লাল-কমলা ফুলে ভরে ওঠে, যা দূর থেকে দেখতে আগুনের মতো লাগে।
মজার তথ্যবাংলা সাহিত্যে গ্রীষ্মকাল আর কৃষ্ণচূড়া প্রায়ই একসাথে উল্লেখ করা হয় - অনেক কবিতা-গানে এই লাল ফুল ঋতু পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুন্দরীসুন্দরবনের নামকরণ
সুন্দরী গাছ সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাওয়া গাছ, এবং এই গাছের নাম থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়।
মজার তথ্যসুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, আর ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যেখানে সুন্দরী গাছের পাশাপাশি রয়েল বেঙ্গল টাইগারও বাস করে।
গোলপাতাউপকূলের ছাউনি গাছ
গোলপাতা একধরনের পাম-জাতীয় উদ্ভিদ, যা উপকূলীয় লবণাক্ত জলাভূমিতে জন্মায় আর এর বড় পাতা ঘরের ছাউনি বানাতে ব্যবহার হয়।
মজার তথ্যসুন্দরবন অঞ্চলে পুরনো দিনে বেশিরভাগ ঘরের চাল গোলপাতা দিয়েই ছাওয়া হতো, কারণ এটা বৃষ্টি ঠেকাতে বেশ কার্যকর আর সহজলভ্য।
বাঁশদ্রুত বর্ধনশীল ঘাস
বাঁশ আসলে গাছ নয়, বরং একধরনের বিশাল ঘাস - এটা পৃথিবীর দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর একটা।
মজার তথ্যবাঁশ একটা পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, কারণ এটা কাঠের চেয়ে অনেক দ্রুত আবার জন্মে যায়, তাই টেকসই বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ধানপ্রধান খাদ্যশস্য
ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য - এই গাছের বীজ প্রক্রিয়াজাত করেই চাল তৈরি হয়, যা থেকে ভাত রান্না হয়।
মজার তথ্যবিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের প্রধান খাদ্য চাল, আর এশিয়া মহাদেশেই বিশ্বের বেশিরভাগ ধান উৎপাদিত হয়।
পাটসোনালি আঁশ
পাট একটা আঁশযুক্ত উদ্ভিদ, যার কাণ্ড থেকে তৈরি হয় সোনালি রঙের শক্ত আঁশ, তাই একে "সোনালি আঁশ" বলা হয়।
মজার তথ্যএকসময় বাংলাদেশকে "পাটের দেশ" বলা হতো, কারণ বিশ্ববাজারে পাট রপ্তানিতে এই অঞ্চলের একচেটিয়া প্রাধান্য ছিল।
শাপলাজাতীয় ফুল
শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল - এটা পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে ভাসমান পাতার ওপর ফোটে।
মজার তথ্যবাংলাদেশের কিছু গ্রামীণ এলাকায় শাপলার ডাঁটা সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়, যা একটা জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী পদ।
কদমবর্ষার ফুল
কদম ফুল বর্ষাকালে ফোটে, গোলাকার আর কমলা-হলুদ রঙের অসংখ্য ছোট পাপড়ি নিয়ে তৈরি একটা সুগন্ধি ফুল।
মজার তথ্যবাংলা গান আর কবিতায় কদম ফুল বর্ষা ঋতুর সাথে এতটাই জড়িয়ে আছে যে "কদম ফুল ফোটা" প্রায়ই বর্ষার আগমনের প্রতীকী বর্ণনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
হিজলজলাভূমির ছায়াবৃক্ষ
হিজল গাছ সাধারণত নদীর তীর বা জলাভূমির ধারে জন্মায়, আর বর্ষাকালে পানিতে আধডোবা অবস্থায় দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।
মজার তথ্যবর্ষাকালে হিজলবনে নৌকা নিয়ে ঘোরা বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে (যেমন সুনামগঞ্জের রাতারগুল) একটা জনপ্রিয় দর্শনীয় অভিজ্ঞতা, যেখানে পানির মধ্যে ডুবে থাকা সবুজ বন দেখা যায়।
বিভাগ ০৫ঔষধি ও মশলা গাছ ৯টি
টবে বসানো ঔষধি আর মশলার গাছগুলো সারি দিয়ে দাঁড়ানো। স্লাইডার টানলে একেকটা সামনে আসে, ক্লিক করলে কোনটা কী কাজে লাগে তা খোলে।
তুলসীপবিত্র ভেষজ
তুলসী একটা সুগন্ধি ভেষজ গাছ, যা সর্দি-কাশিতে আরাম দিতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার করা হয়।
মজার তথ্যঅনেক বাঙালি বাড়ির উঠানে তুলসী গাছ লাগানোর একটা পুরনো রীতি আছে, যা ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি সহজলভ্য ঘরোয়া ওষুধ হিসেবেও কাজে লাগে।
নিমতেতো কিন্তু উপকারী
নিম গাছের পাতা তেতো স্বাদের হলেও এটা ত্বকের সমস্যা আর জীবাণু দমনে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত একটা গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ।
মজার তথ্যনিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজার রীতি বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বহু পুরনো - এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দাঁত ও মাড়ির জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
অ্যালোভেরাঘৃতকুমারী
অ্যালোভেরা (ঘৃতকুমারী) একটা মোটা, শাঁসালো পাতাযুক্ত উদ্ভিদ, যার ভেতরের জেল ত্বক ঠান্ডা রাখতে ও পোড়ায় আরাম দিতে ব্যবহার হয়।
মজার তথ্যআধুনিক প্রসাধনী শিল্পে অ্যালোভেরা এতটাই জনপ্রিয় যে শ্যাম্পু, ক্রিম, লোশন - প্রায় সব ধরনের পণ্যেই এখন এর নির্যাস ব্যবহার করা হয়।
আদাঝাল সুগন্ধি মূল
আদা একটা মাটির নিচের কাণ্ড (রাইজোম), যা ঝাল স্বাদ আর তীব্র গন্ধের জন্য রান্না ও ওষুধ দুই কাজেই ব্যবহার হয়।
মজার তথ্যজাহাজে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় বমি বমি ভাব ঠেকাতে পুরনো নাবিকরা আদা চিবিয়ে খেতেন - এই ব্যবহার এখনো ভ্রমণে গা গোলানো ঠেকাতে অনেকে অনুসরণ করেন।
হলুদরান্নার রং ও ওষুধ
হলুদ একটা উজ্জ্বল হলুদ রঙের মশলা, যা রান্নায় রং আর স্বাদ যোগ করার পাশাপাশি ক্ষত সারাতেও ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার হয়।
মজার তথ্যকাপড়ে হলুদের দাগ সহজে ওঠে না, কারণ কারকিউমিন রং হিসেবে খুবই শক্তিশালী - পুরনো দিনে কাপড় রং করতেও হলুদ ব্যবহার হতো।
দারুচিনিগাছের ছাল থেকে মশলা
দারুচিনি আসলে একধরনের গাছের ছাল শুকিয়ে গুটিয়ে বানানো একটা সুগন্ধি মশলা, যা মিষ্টি ও ঝাল দুই ধরনের রান্নাতেই ব্যবহার হয়।
মজার তথ্যপ্রাচীন মিশরে দারুচিনি এতটাই মূল্যবান ছিল যে এটা মমি তৈরির প্রক্রিয়াতেও ব্যবহার করা হতো, স্বর্ণের মতোই এর দাম ছিল অনেক বেশি।
এলাচমশলার রানি
এলাচ একটা ছোট, সবুজ বীজযুক্ত মশলা, যার তীব্র সুগন্ধের কারণে একে "মশলার রানি" বলা হয়।
মজার তথ্যবাংলাদেশে মিষ্টি পানের সাথে বা চায়ে এলাচ ব্যবহারের প্রচলন খুব পুরনো, বিশেষ করে উৎসব বা মেহমানদারিতে এলাচ চা পরিবেশনের একটা বিশেষ রীতি আছে।
পুদিনাশীতল অনুভূতির পাতা
পুদিনা পাতা মুখে দিলে বা শুঁকলে একধরনের ঠান্ডা অনুভূতি হয়, তাই এটা চাটনি, শরবত আর মাউথওয়াশে ব্যবহার হয়।
মজার তথ্যগরমকালে পুদিনা পাতা দিয়ে বানানো ঠান্ডা শরবত বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয় একটা পানীয়, যা তাৎক্ষণিক প্রশান্তি দেয়।
থানকুনিস্মৃতিশক্তির পাতা
থানকুনি একটা ছোট, গোলাকার পাতাযুক্ত ভেষজ, যা গ্রামীণ চিকিৎসায় হজম আর ক্ষত সারাতে ব্যবহার করা হয়।
মজার তথ্যথানকুনি পাতা বেটে ভর্তা বানানোর রীতি বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে প্রচলিত, যা একটা স্বাস্থ্যকর ও ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে পরিচিত।
বিভাগ ০৬প্রাণীর শ্রেণি ১০টি
প্রতিটি শ্রেণির একটা করে প্রাণী সামনে দাঁড়ানো - স্তন্যপায়ীর জায়গায় বাঘ, পাখির জায়গায় দোয়েল, সরীসৃপের জায়গায় কুমির। স্লাইডার টানলে একেকটা এগিয়ে আসে।
স্তন্যপায়ীবাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়
স্তন্যপায়ী প্রাণী তাদের বাচ্চাদের নিজের শরীরের দুধ খাইয়ে বড় করে, আর এদের শরীরে সাধারণত লোম বা পশম থাকে।
মজার তথ্যতিমি আর ডলফিন পানিতে থাকলেও এরা মাছ নয়, বরং স্তন্যপায়ী - এরা ফুলকা দিয়ে নয়, ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয় আর মাঝে মাঝে পানির ওপরে ভেসে উঠে শ্বাস নিতে হয়।
পাখিপালকযুক্ত ও ডিম পাড়ে
পাখির শরীর পালকে ঢাকা থাকে, এদের ঠোঁট থাকে দাঁতের বদলে, আর প্রায় সব পাখিই ডিম পেড়ে বাচ্চা ফোটায়।
মজার তথ্যময়ূরের পেখমের চোখের মতো দাগ আসলে চোখ নয়; পালকের এই নকশাকে eyespot বা ocelli বলা হয়।
সরীসৃপআঁশযুক্ত শীতল রক্তের প্রাণী
সরীসৃপের শরীর শক্ত আঁশে ঢাকা থাকে আর এরা শীতল রক্তের প্রাণী, অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে সাথে এদের শরীরের তাপমাত্রাও বদলায়।
মজার তথ্যগিরগিটি একেকটি চোখ আলাদা দিকে ঘোরাতে পারে; শিকার চোখে পড়লে দুই চোখ একই লক্ষ্যবস্তুর দিকে তাক করে দূরত্ব বুঝতে সাহায্য করে।
উভচরপানি ও স্থল দুই জগতের বাসিন্দা
উভচর প্রাণী জীবনের প্রথম ভাগ পানিতে আর পরের ভাগ স্থলে কাটায়, আর এদের ত্বক সাধারণত পিচ্ছিল ও ভেজা থাকে।
মজার তথ্যঅ্যাক্সোলটল পানিতে থাকে এবং মাথার পাশের পালকের মতো বাহ্যিক ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়; কাছে থেকে দেখলে ফুলকার গুচ্ছগুলো স্পষ্ট বোঝা যায়।
মাছফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়
মাছ সম্পূর্ণভাবে পানিতে বাস করে আর ফুলকা দিয়ে পানি থেকে অক্সিজেন শোষণ করে শ্বাস নেয়।
মজার তথ্যইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ, আর প্রজননের সময় এটা সমুদ্র থেকে নদীর মিঠাপানিতে বহুদূর পাড়ি দিয়ে আসে, যাকে বলে মাইগ্রেশন।
পতঙ্গছয় পা, তিন অংশের শরীর
পতঙ্গের শরীর তিনটে প্রধান অংশে ভাগ করা থাকে (মাথা, বুক, পেট) আর এদের ঠিক ছয়টা পা থাকে।
মজার তথ্যপিঁপড়া নিজের শরীরের ওজনের চেয়ে বহুগুণ বেশি ভারী জিনিস তুলতে পারে - এদের ছোট শরীরের তুলনায় পেশি অনেক বেশি শক্তিশালী।
মেরুদণ্ডীপিঠে হাড়ের সারি
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শরীরের ভেতরে একটা মেরুদণ্ড (পিঠের হাড়ের সারি) থাকে, যা শরীরকে গঠন আর সহায়তা দেয়।
মজার তথ্যপৃথিবীতে যত প্রজাতির প্রাণী আছে, তার মধ্যে মেরুদণ্ডী প্রাণীর সংখ্যা আসলে খুবই কম অংশ - বেশিরভাগ প্রাণীই আসলে অমেরুদণ্ডী, বিশেষত পতঙ্গ।
অমেরুদণ্ডীহাড় ছাড়া প্রাণী
অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের শরীরে কোনো ভেতরের হাড়ের কাঠামো (মেরুদণ্ড) থাকে না।
মজার তথ্যঅক্টোপাসের শরীরে মেরুদণ্ড নেই। তাই তার ঠোঁটের চেয়ে বড় নয় এমন ফাঁক দিয়ে ঢুকে যেতে পারে, যদি বাকি শরীরটাও সেই ফাঁকে মানায়।
শীতল রক্তপরিবেশের সাথে বদলায়
শীতল রক্তের প্রাণীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে সাথে ওঠানামা করে, নিজে থেকে স্থির রাখতে পারে না।
মজার তথ্যশীতল রক্তের প্রাণী শীতকালে খুব ধীরগতির হয়ে যায় বা শীতনিদ্রায় চলে যায়, কারণ ঠান্ডায় এদের শরীরের ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়া অনেক ধীর হয়ে যায়।
উষ্ণ রক্তনিজেই তাপ ধরে রাখে
উষ্ণ রক্তের প্রাণীরা পরিবেশ ঠান্ডা বা গরম যাই হোক না কেন নিজেদের শরীরের তাপমাত্রা প্রায় স্থির রাখতে পারে।
মজার তথ্যপেঙ্গুইনরা তীব্র শীতেও নিজেদের শরীরের তাপ ধরে রাখতে একসাথে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়ায় আর পালাক্রমে বাইরের ঠান্ডা দিকে দাঁড়িয়ে সবাই মিলে উষ্ণতা ভাগ করে নেয়।
বিভাগ ০৭বাংলাদেশের প্রাণী ১২টি
বাংলাদেশের বারোটা প্রাণী একসঙ্গে - বাঘ, হাতি, ইলিশ, শুশুক, কুমির, মাছরাঙা। স্লাইডার টানলে একেকটা সামনে এসে ঘুরে দেখায়, আর যেকোনোটায় ক্লিক করলে তার কথা খোলে।
রয়েল বেঙ্গল টাইগারজাতীয় পশু
রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় পশু, যা মূলত সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভ বনে বাস করে।
মজার তথ্যসুন্দরবনের বাঘ বিরল ঘটনা হিসেবে মাঝে মাঝে বড় হরিণের বদলে কাঁকড়া বা এমনকি মাছও শিকার করে খায় বলে গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন।
ইলিশজাতীয় মাছ
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ, যা এর বিশেষ স্বাদ আর গন্ধের জন্য বাঙালি খাদ্যসংস্কৃতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মজার তথ্যপহেলা বৈশাখে ইলিশ-পান্তা খাওয়ার রীতি বাংলা নববর্ষ উদযাপনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
দোয়েলজাতীয় পাখি
দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি, কালো-সাদা পালক আর মিষ্টি সুরেলা ডাকের জন্য পরিচিত।
মজার তথ্যবাংলাদেশের এক টাকার কয়েনে দোয়েল পাখির ছবি খোদাই করা থাকে, যা এই পাখির জাতীয় গুরুত্বকে তুলে ধরে।
হাতিবৃহত্তম স্থল প্রাণী
হাতি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণী, বাংলাদেশের পার্বত্য ও বনাঞ্চলে এখনো বন্য হাতি দেখা যায়।
মজার তথ্যহাতির দল সাধারণত সবচেয়ে বয়স্ক ও অভিজ্ঞ স্ত্রী হাতির নেতৃত্বে চলে, যাকে বলা হয় মাতৃতান্ত্রিক দলগত জীবন।
শুশুকমিঠাপানির ডলফিন
শুশুক বাংলাদেশের নদীতে পাওয়া একধরনের মিঠাপানির ডলফিন, যা প্রায় অন্ধ কিন্তু শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে পথ চলে।
মজার তথ্যশুশুক বাংলাদেশে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত, নদী দূষণ আর মাছ ধরার জালে আটকে পড়ায় এদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে বলে সংরক্ষণবিদরা উদ্বিগ্ন।
কুমিরনদী-খালের শিকারি
কুমির একটা বড় সরীসৃপ শিকারি, যা নদী, খাল বা লবণাক্ত জলাভূমিতে বাস করে আর দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে।
মজার তথ্যকুমির খাবার ছাড়াই মাসের পর মাস বেঁচে থাকতে পারে, কারণ এরা ধীরগতির বিপাকক্রিয়ার প্রাণী যা শক্তি খুব কম হারে খরচ করে।
মাছরাঙানিখুঁত ডুবসাঁতারু শিকারি
মাছরাঙা একটা রঙিন পাখি, যা পানির ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে অসাধারণ নিখুঁতভাবে মাছ শিকার করে।
মজার তথ্যমাছরাঙার মাথার আকৃতি আর ঠোঁট এতটাই সুবিন্যস্ত যে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার সময় প্রায় কোনো ছিটা তৈরি হয় না, এই নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জাপানের দ্রুতগামী ট্রেনের সামনের অংশ নকশা করা হয়েছে বলে জানা যায়।
চিতা বিড়ালছোট বন্য বিড়াল
চিতা বিড়াল একটা ছোট আকৃতির বন্য বিড়াল প্রজাতি, যার গায়ে চিতাবাঘের মতো ছোপ ছোপ দাগ থাকে।
মজার তথ্যদেখতে অনেকটা গৃহপালিত বিড়ালের মতো হলেও চিতা বিড়াল সম্পূর্ণ বন্য প্রাণী আর এদের পোষ মানানো সহজ নয়, স্বভাবে এরা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক।
বানরগাছে বসবাসকারী স্তন্যপায়ী
বানর একটা বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণী, যারা দলবদ্ধভাবে বাস করে আর গাছে গাছে দ্রুত চলাফেরা করতে পারে।
মজার তথ্যকিছু এলাকায় (যেমন চট্টগ্রামের কিছু মন্দির চত্বরে) বানরদের মানুষের কাছাকাছি থাকতে থাকতে তারা বেশ সাহসী হয়ে ওঠে, এমনকি হাত থেকে খাবার নিয়ে নেওয়ার মতো আচরণও করে।
শকুনপ্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী
শকুন মৃত প্রাণীর দেহ খেয়ে প্রকৃতি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, তাই এদের প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলা হয়।
মজার তথ্যবাংলাদেশে গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত একধরনের ওষুধের কারণে শকুনের সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গিয়েছিল, এই সমস্যা সমাধানে এখন সেই ওষুধ নিষিদ্ধ করে শকুন সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে।
কচ্ছপসবুজ সামুদ্রিক কাছিমসমুদ্রের সরীসৃপ
এটি সবুজ সামুদ্রিক কাছিম (*Chelonia mydas*), সব কচ্ছপের নমুনা নয়। বাংলাদেশের উপকূলেও এই প্রজাতির দেখা মেলে; কয়েকটি দ্বীপের সৈকতে এরা ডিম পাড়ে।
মজার তথ্যবাংলাদেশের ২০১৪ সালের সরীসৃপ লাল তালিকার মূল্যায়নে প্রজাতিটিকে “Critically Endangered” বলা হয়েছিল; এটি ওই মূল্যায়নের সময়কার অবস্থা, বর্তমান হালনাগাদ শ্রেণি নয়।
মধুমক্ষিকামধু তৈরির পতঙ্গ
মধুমক্ষিকা একধরনের মৌমাছি, যারা দলবদ্ধভাবে মৌচাক বানিয়ে ফুলের মধু সংগ্রহ করে মধু তৈরি করে।
মজার তথ্যসুন্দরবনে ঐতিহ্যগতভাবে মৌয়ালরা বন্য মধু সংগ্রহ করতে যান, যা একটা ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিনের জীবিকা - কারণ একই বনে বাঘের সাথে সহাবস্থান করেই তাদের কাজ করতে হয়।
বিভাগ ০৮মানবদেহ ১৪টি
স্বচ্ছ ত্বকের ভেতরে হৃৎপিণ্ড ধুকপুক করে আর ফুসফুস ওঠানামা করে। প্রথম স্লাইডার টানলে বিশ্রামের হার থেকে দৌড়ের হারে স্পন্দন বাড়ে, আর খুলে দেখো টানলে ত্বক, কঙ্কাল আর প্রতিটি অঙ্গ আলাদা হয়ে বেরিয়ে আসে; যেকোনো অঙ্গে ক্লিক করলে তার কথা খোলে।
কঙ্কালশরীরের কাঠামো
কঙ্কাল হলো শরীরের ভেতরের হাড়ের কাঠামো, যা শরীরকে আকৃতি দেয় আর ভেতরের নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে।
মজার তথ্যশরীরের সবচেয়ে ছোট হাড়টা আসলে কানের ভেতরে থাকে, যা একটা চালের দানার চেয়েও ছোট, কিন্তু শব্দ শোনার জন্য অপরিহার্য।
পেশিনড়াচড়ার যন্ত্র
পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে শরীরের হাড়কে টেনে নড়াচড়া করায়, হাঁটা-দৌড়ানো থেকে শুরু করে চোখের পলক ফেলা পর্যন্ত সব কাজেই পেশি লাগে।
মজার তথ্যমানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশি চোয়ালের - এটা প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে সবচেয়ে বেশি বল প্রয়োগ করতে পারে, যা শক্ত খাবার চিবানোর জন্য জরুরি।
হৃৎপিণ্ডরক্ত পাম্প করে
হৃৎপিণ্ড একটা পেশিবহুল অঙ্গ, যা ক্রমাগত সংকুচিত-প্রসারিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে পাঠায়।
মজার তথ্যবিশ্রামে থাকা অবস্থায়ও একজন মানুষের হৃৎপিণ্ড দিনে প্রায় এক লাখ বার স্পন্দিত হয়, কোনো বিরতি ছাড়াই সারাজীবন এই কাজ করে যায়।
রক্তশরীরের পরিবহন ব্যবস্থা
রক্ত শরীরের সব জায়গায় অক্সিজেন, খাদ্যরস আর প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেয়, আবার বর্জ্য পদার্থ সরিয়ে নিয়ে যায়।
মজার তথ্যএকজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ৫ লিটার রক্ত থাকে, আর এই রক্ত সম্পূর্ণ শরীর ঘুরে আসতে মাত্র প্রায় এক মিনিট সময় লাগে।
ফুসফুসশ্বাসের অঙ্গ
ফুসফুস বুকের ভেতরে থাকা একজোড়া অঙ্গ, যা শ্বাসের মাধ্যমে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয় আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়।
মজার তথ্যহেঁচকি আসলে ডায়াফ্রামের (ফুসফুসের নিচের পেশির পর্দা) হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিত সংকোচনের ফল, যা শ্বাসনালীতে হঠাৎ বাতাস বন্ধ হয়ে "হিক" শব্দ তৈরি করে।
পাচনতন্ত্রখাদ্য থেকে পুষ্টি
পাচনতন্ত্র মুখ থেকে শুরু করে পাকস্থলী, নাড়িভুঁড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত একটা পথ, যেখানে খাবার ভেঙে শরীরের কাজে লাগার উপযোগী পুষ্টিতে পরিণত হয়।
মজার তথ্যপেটে "গুড়গুড়" শব্দ হওয়ার কারণ আসলে খাবার আর গ্যাস পাচনতন্ত্রের ভেতর দিয়ে চলাচল করার শব্দ, এটা খালি পেটেও হতে পারে, শুধু ক্ষুধার লক্ষণ নয়।
মস্তিষ্কনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র
মস্তিষ্ক শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা চিন্তা, স্মৃতি, অনুভূতি আর শরীরের প্রায় সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
মজার তথ্যমস্তিষ্ক শরীরের ওজনের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ হলেও এটা শরীরের মোট শক্তির প্রায় ২০ শতাংশ খরচ করে ফেলে, কারণ এত জটিল কাজ চালাতে প্রচুর শক্তি দরকার।
স্নায়ুসংকেত বহনকারী তার
স্নায়ু হলো শরীরের ভেতরের তারের মতো পথ, যার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বাকি অংশে আর শরীর থেকে মস্তিষ্কে সংকেত যাতায়াত করে।
মজার তথ্যশরীরের সবচেয়ে লম্বা স্নায়ুটা মেরুদণ্ড থেকে শুরু হয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত বিস্তৃত, একজন লম্বা মানুষের ক্ষেত্রে এটা প্রায় এক মিটার লম্বা হতে পারে।
চোখদেখার অঙ্গ
চোখ আলো ধরে সেটাকে মস্তিষ্কের বোঝার উপযোগী সংকেতে রূপান্তরিত করে, এভাবেই আমরা চারপাশের জিনিস দেখতে পাই।
মজার তথ্যমানুষের চোখ প্রায় এক কোটি ভিন্ন রং চিনতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন, যদিও প্রতিটা মানুষের রং দেখার অভিজ্ঞতা সামান্য ভিন্ন হতে পারে।
কানশোনার ও ভারসাম্যের অঙ্গ
কান শুধু শব্দ শোনার কাজই করে না, শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতেও সাহায্য করে।
মজার তথ্যমাথা দ্রুত ঘুরিয়ে হঠাৎ থামলে মাথা ঘোরার অনুভূতি হয়, কারণ কানের ভেতরের তরল কিছুক্ষণ ঘুরতেই থাকে, যদিও মাথা থেমে গেছে।
জিভস্বাদের অঙ্গ
জিভ খাবারের স্বাদ চিনতে সাহায্য করে, আর কথা বলা ও খাবার গেলার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মজার তথ্যজিভের ছাপও মানুষভেদে আলাদা হতে পারে বলে কিছু গবেষণা বলে, অনেকটা আঙুলের ছাপের মতোই এটাও অনন্য।
ত্বকশরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ
ত্বক শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ, যা শরীরকে বাইরের ধুলাবালি, জীবাণু আর আঘাত থেকে রক্ষা করে।
মজার তথ্যপূর্ণবয়স্ক মানুষের সম্পূর্ণ ত্বক মেলে ধরলে প্রায় দুই বর্গমিটার জায়গা জুড়ে থাকবে, আর এটা প্রতি মাসেই পুরোনো কোষ ঝরিয়ে নতুন কোষে বদলে যেতে থাকে।
দাঁতখাবার কাটা-চিবানোর অংশ
দাঁত খাবার কাটা আর চিবানোর কাজ করে, আর কথা বলার সময় সঠিক উচ্চারণেও সাহায্য করে।
মজার তথ্যশিশুদের প্রথম দুধ দাঁত সাধারণত ২০টা হয়, যা পরে ধীরে ধীরে পড়ে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ৩২টা স্থায়ী দাঁতে বদলে যায়।
কিডনিরক্ত পরিশোধন যন্ত্র
কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করে প্রস্রাব আকারে শরীর থেকে বের করে দেয়।
মজার তথ্যএকজন মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে মাত্র একটা কিডনি দিয়েও, এই কারণেই জীবিত মানুষ থেকে কিডনি দান করা (একটা কিডনি দিয়ে) সম্ভব হয়।