পসরাজ্ঞানের পসরা

পসরা / লেখা / পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র

পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র

বিজ্ঞানের পদ্ধতি: প্রশ্ন থেকে সিদ্ধান্ত

৩ মিনিট পড়া · হালনাগাদ

বিজ্ঞানের পদ্ধতি: প্রশ্ন থেকে সিদ্ধান্ত বিষয়ের বাস্তবধর্মী শিক্ষামূলক ছবি

বিজ্ঞান কোনো তথ্যের ভাণ্ডার নয়, একটা পদ্ধতি। তথ্যগুলো সেই পদ্ধতির ফল।

পদ্ধতিটার সবচেয়ে জরুরি বৈশিষ্ট্য হলো, এটা নিজের ভুল ধরার ব্যবস্থা নিজের ভেতরেই রাখে।

🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোবিজ্ঞানের পদ্ধতির ধাপ কয়টি?উত্তর দেখো
ভাবনার সূত্র

বইভেদে পাঁচ থেকে সাতটি। মূল কাঠামোটা এক: প্রশ্ন, অনুমান, পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত আর পুনরাবৃত্তি।

সাতটা ধাপ

প্রশ্ন করা: কিছু একটা লক্ষ করা আর জানতে চাওয়া কেন এমন হয়

প্রশ্ন করা: কিছু একটা লক্ষ করা আর জানতে চাওয়া কেন এমন হয়। সব বিজ্ঞান এখান থেকেই শুরু।

অনুমান: একটা সম্ভাব্য উত্তর, যা পরীক্ষা করে দেখা যায়। "গাছ রোদে বেশি বাড়ে" - এটা অনুমান, কারণ এটা যাচাই করা সম্ভব।

পরীক্ষা: এমনভাবে সাজাতে হয় যাতে একবারে একটা জিনিসই বদলায়। দুটো গাছ, একই মাটি, একই পানি, শুধু একটা রোদে আর একটা ছায়ায়।

পর্যবেক্ষণ: যা ঘটল তা দেখা, যা ঘটবে ভেবেছিলে তা নয়।

তথ্য লেখা: মাপ নিয়ে লিখে রাখা। স্মৃতি বদলে যায়, খাতা বদলায় না।

সিদ্ধান্ত: তথ্য অনুমানটাকে সমর্থন করল কিনা।

পুনরাবৃত্তি: আবার করা, বা অন্য কাউকে দিয়ে করানো। একবারের ফল কাকতালীয় হতে পারে।

একবারে একটা জিনিস

পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এটাই

পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এটাই। দুটো গাছের একটাকে বেশি রোদ আর বেশি পানি দুটোই দিলে, সে বেশি বাড়লে বোঝা যাবে না কারণটা কী।

যেটা ইচ্ছে করে বদলানো হয় সেটা চলক, আর বাকি সব একই রাখতে হয়।

তুলনার জন্য একটা "কিছুই বদলানো হয়নি" নমুনা রাখা ভালো। ওটাই মাপকাঠি, যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

ভুল প্রমাণিত হওয়াও সফলতা

অনুমান ভুল প্রমাণিত হলে পরীক্ষাটা ব্যর্থ হয়নি

অনুমান ভুল প্রমাণিত হলে পরীক্ষাটা ব্যর্থ হয়নি। একটা সম্ভাবনা বাদ দেওয়া গেছে, আর সেটা সত্যিকারের তথ্য।

বিজ্ঞানের শক্তিটাই এখানে: কোনো দাবি টিকে থাকে যতক্ষণ না কেউ প্রমাণ দিয়ে দেখায় সেটা ভুল। ভুল প্রমাণ করার সুযোগ না থাকলে সেটা বিজ্ঞানই নয়।

শিশুকে এই অংশটা শেখানো সবচেয়ে দরকারি, কারণ স্কুলে সাধারণত "সঠিক উত্তর" পাওয়াটাই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

বাঙালি বিজ্ঞানীরা

জগদীশচন্দ্র বসু বেতার তরঙ্গ নিয়ে কাজ করেছেন, আর যন্ত্র বানিয়ে দেখিয়েছেন গাছেরও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা আছে

জগদীশচন্দ্র বসু বেতার তরঙ্গ নিয়ে কাজ করেছেন, আর যন্ত্র বানিয়ে দেখিয়েছেন গাছেরও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা আছে। তাঁর ক্রেসকোগ্রাফ গাছের অতি ধীর বৃদ্ধিকে লক্ষ গুণ বড় করে দেখাত।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাজ থেকে একটা গোটা কণাশ্রেণির নাম হয়েছে বোসন, আর আইনস্টাইনের সঙ্গে যৌথ কাজ থেকে এসেছে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান।

মেঘনাদ সাহা তারার আলো বিশ্লেষণ করে তার তাপমাত্রা বোঝার সমীকরণ দিয়েছেন, যা জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তিগুলোর একটা।

প্রফুল্লচন্দ্র রায় রসায়নবিদ, আর বেঙ্গল কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা - তাঁর কাছে দেশে শিল্প গড়াটাও বিজ্ঞানেরই অংশ ছিল।

ফজলুর রহমান খান ঢাকায় জন্ম নেওয়া স্থাপত্য প্রকৌশলী, আর শিকাগোর উইলিস টাওয়ার ও জন হ্যানকক সেন্টার তাঁরই নকশার কাঠামোয় দাঁড়িয়ে।

মাকসুদুল আলম পাটের জিন নকশা উন্মোচনের দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা খরা বা লবণ সহ্য করতে পারে এমন জাত তৈরিতে কাজে লাগে।

সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন

বিজ্ঞানের পদ্ধতির ধাপ কয়টি?

বইভেদে পাঁচ থেকে সাতটি। মূল কাঠামোটা এক: প্রশ্ন, অনুমান, পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত আর পুনরাবৃত্তি।

চলক কাকে বলে?

পরীক্ষায় যে জিনিসটা বদলানো হয় বা বদলায়। ভালো পরীক্ষায় একবারে একটাই চলক বদলানো হয়, বাকি সব একই রাখা হয়।

অনুমান ভুল হলে কী করব?

নতুন অনুমান বানিয়ে আবার পরীক্ষা করতে হবে। ভুল প্রমাণিত হওয়া মানে একটা সম্ভাবনা বাদ দেওয়া গেল, আর সেটাও তথ্য।

এবার নিজে নেড়ে দেখো

আরও যাচাই করে পড়ো

নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।

এবার হাতে-কলমে

এই পড়া থেকে পরের ধাপে যাও

লেখায় ধারণাটা বুঝে নাও, তারপর পসরা ভুবনে বিষয়টি খুঁজে দেখো বা কাছের আরেকটি বিষয় শেখো।

← সব লেখা · পরীক্ষা, পদ্ধতি ও যন্ত্র ভুবনে যাও

হোয়াটসঅ্যাপ