ভুবন / ভাষা
ভুবন · Language
ভাষা
বর্ণ, শব্দ, ছড়া ও ব্যাকরণ
আমার অগ্রগতি
করে দেখোস্লাইডার টানলে একেকটা বাংলা বর্ণ বড় হয়ে সামনে আসে, বাকিগুলো চারপাশে ঘুরতে থাকে।
খোঁজার খেলা শেষ
★★★
দারুণ!
গোল ছবিগুলোয় ক্লিক করো · টেনে ঘোরাও · খুলে দেখো টানো
ধারণা বোঝানোর মডেল · মাপ ও দূরত্ব একই অনুপাতে নয়
আমগাছের ৩ডি মডেল: stealth86-এর “Mango Tree” · CC BY 4.0 তালগাছের ৩ডি মডেল: P.S.Thng-এর “Palmyra” · CC BY 4.0 · উৎসে এটিকে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট তালগাছের মাঠ-স্ক্যান বলা হয়নি এলাচের ফল ও বীজের বাটির ৩ডি মডেল: go3452-এর “Cardamom Bowl” · CC BY 4.0 · উৎসে AI-সহায়তায় তৈরি বলা হয়েছে; এটি এলাচের গাছ বা বাস্তব নমুনার স্ক্যান নয় বাঘের চলমান ৩ডি মডেল: Amil (francescolima74)-এর “Running Tiger” · CC BY 4.0 · উৎসে বাঘ বলা হয়েছে; রয়েল বেঙ্গল উপপ্রজাতি আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি সুন্দরবনের নোনা পানির কুমিরের ৩ডি মডেল: VoltVeigh-এর “HSW Saltwater Crocodile” · CC BY 4.0 · প্রজাতির উদাহরণ, সুন্দরবনের নির্দিষ্ট প্রাণীর স্ক্যান নয়; ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার সংকুচিত নিমগাছের ৩ডি মডেল: Rohit Pawar-এর “Neem Tree” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার ছোট করা হয়েছে ধানের উদাহরণ ৩ডি মডেল: ffish.asia · “Rice (Oryza sativa)” · CC0 1.0 অ্যালোভেরার ৩ডি স্ক্যান: matousekfoto-এর “Aloe vera plant” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য সরলীকৃত তুলসী গাছের ৩ডি স্ক্যান: Prakash.Chatterjee-এর “Tulsi Tree on a cement tub” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার ছোট করা হয়েছে কাঁঠালের ৩ডি নমুনা: RISD Nature Lab-এর “Jackfruit Pod” · CC BY 4.0 · জাদুঘরের ফলের নমুনার স্ক্যান, কাঁঠাল গাছ নয় বটগাছের গোড়া ও ঝুরি-শিকড়ের ৩ডি স্ক্যান: Jimmy Gunawan-এর “BANYAN TREE” · CC BY 4.0 · ১২টি ছবি থেকে তৈরি ফটোগ্রামেট্রি; পুরো গাছ নয়, নির্দিষ্ট বাংলাদেশি গাছ বলেও দাবি নয় শিমুল (Bombax ceiba) গাছের ৩ডি স্ক্যান: Yu Kai Him Otto-র “Bombax ceiba L Roadsite Tree” · CC BY 4.0 · বাস্তব রাস্তার পাশের গাছের স্ক্যান; ওয়েবের জন্য জ্যামিতি ও টেক্সচার ছোট করা হয়েছে গোলপাতার ফলগুচ্ছের ৩ডি মডেল: zefruitlivingbeingidk-এর “Nypa fruticans” · CC BY 4.0 · ফলগুচ্ছের ডিজিটাল নমুনা, পুরো গাছ নয়; তথ্য: Kew Plants of the World Online শাপলা বোঝাতে Nymphaea গণের একটি জললিলির ৩ডি মডেল: ffish.asia / floraZia.com-এর “Water Lily, Nymphaea cv.” · CC0 1.0 · ওয়েবের জন্য সরলীকৃত; এটি শাপলার নির্দিষ্ট স্থানীয় জাতের স্ক্যান নয় কৃষ্ণচূড়া (*Delonix regia*)-এর ৩ডি মডেল: PlantCatalog-এর “Realistic HD Royal poinciana (15/40)” · CC BY 4.0 · জ্যামিতি সরল ও টেক্সচার সংকুচিত; উৎসের মডেলটি স্থির, অ্যানিমেশন নেই দাঁড়িপাল্লার ৩ডি মডেল: Jean-Francois.Bonin-এর “Balance Scale” · CC BY 4.0 · ওয়েবের জন্য সরল ও সংকুচিত; স্থির মডেল হলুদের কাঁচা রাইজোম (মাটির নিচের কাণ্ড)-এর ৩ডি স্ক্যান: Keeszify-এর “Turmeric Root” · CC BY 4.0 · এটি কাঁচা রাইজোম, সম্পূর্ণ হলুদ গাছ বা গুঁড়া নয় শুকনো দারুচিনি-ছালের ৩ডি স্ক্যান: sfsen-এর “3d scanned Cinnamon stick” · CC BY 4.0 · এটি শুকনো ছাল, জীবন্ত গাছ বা গুঁড়া নয় পুদিনা পাতার গুচ্ছের ৩ডি মডেল: Zinaida.Kovrova-এর “Mint Leaves” · CC BY 4.0 · এটি পাতার নমুনা, সম্পূর্ণ পুদিনা গাছ নয় ভাতের বাটির ৩ডি মডেল: Frid.blend-এর “Rice in bowl” · CC BY 4.0 · শর্করার উদাহরণ হিসেবে রান্না করা ভাত; ডাল নয় ভাজা মাছের সাধারণ ফটোগ্রামেট্রি ৩ডি স্ক্যান: wox080xow-এর “Ikan Goreng” · CC BY 4.0 · এটি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট মাছের জাত বা রেসিপির নমুনা নয় গঙ্গা নদীর শুশুকের কঙ্কাল-স্ক্যান, নমুনা C 272: Patrizia17 ও পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের স্ক্যান · CC BY-SA 4.0 · ওয়েবের জন্য STL থেকে GLB-তে রূপান্তর ও জ্যামিতি সরল করা হয়েছে · এটি কঙ্কাল, জীবন্ত শুশুক নয় লাল মরিচের ৩ডি স্ক্যান: Muhammad Azim-এর “Red Chilli — 3d Scan” · CC BY 4.0 · এটি একটি মরিচের ফল, মরিচগাছ নয় সাদা-গলা মাছরাঙার ৩ডি স্ক্যান: RISD Nature Lab-এর “White-throated Kingfisher” · CC BY 4.0 · স্ক্যানটি ট্যাক্সিডার্মি নমুনার; পাখিটি জীবিত বা ওড়ার ভঙ্গিতে নয় এশীয় হাতির ৩ডি মডেল: planeta-elefante-এর “Asian Elephant” · CC BY 4.0 · ওয়েব ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করা GLB; উৎসে আলাদা চলার ও পানি ছিটানোর অ্যানিমেশনও রয়েছে স্টপওয়াচের ৩ডি মডেল: mantledmoon-এর “Soviet Stopwatch” · CC BY 4.0 · পুরোনো যান্ত্রিক স্টপওয়াচের উদাহরণ ব্যারোমিটারের ৩ডি মডেল: darkmoral-এর “Barometer” · CC BY 4.0 · পুরোনো অ্যানেরয়েড ব্যারোমিটারের একটি উদাহরণ এখানে চিকিৎসায় ব্যবহৃত কাচের মৌখিক থার্মোমিটারের উদাহরণ: Medical.Gallery Graphics-এর “Thermometer” · CC BY 4.0 · এটি আবহাওয়া বা ডিজিটাল থার্মোমিটার নয় পতঙ্গ বোঝাতে একটি মৌমাছির ৩ডি নমুনা: Pasha-এর “Realistic bee”, Irfan-এর মূল “Bee” মডেলের ভিত্তিতে · উভয় তালিকায় CC BY 4.0 · এটি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট মধুমক্ষিকা প্রজাতির দাবি নয়; ওয়েবের জন্য ছোট করা হয়েছে শিয়ালের ৩ডি মডেল: 1DesignTool-এর বাণিজ্যিক ওয়েব-ব্যবহারের লাইসেন্সে · মডেল ও লাইসেন্স প্যান্থার গিরগিটির ৩ডি নমুনা · মডেল ও লাইসেন্স · চোখের তথ্য: Smithsonian National Zoo · এটি বাংলাদেশি প্রজাতির উদাহরণ নয় ভারতীয় ময়ূরের ৩ডি নমুনা · মডেল ও লাইসেন্স · পেখমের তথ্য: San Diego Zoo · এটি বাংলাদেশের পাখির তালিকার অংশ নয় অ্যাক্সোলটলের ৩ডি নমুনা · মডেল ও লাইসেন্স · ফুলকার তথ্য: San Diego Zoo · এটি বাংলাদেশের প্রাণী নয় অক্টোপাসের ৩ডি মডেল: rayleighsyafiq-এর “Octopus” · CC BY 4.0 · এটি অমেরুদণ্ডী প্রাণীর একটি উদাহরণ, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট প্রজাতি নয় · তথ্য: Smithsonian Ocean সবুজ সামুদ্রিক কাছিম (*Chelonia mydas*)-এর ৩ডি নমুনা: jgrabo20-এর “Green Sea Turtle” · CC BY 4.0 · এটি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো কাছিমের স্ক্যান নয় · তথ্য: বাংলাদেশের সরীসৃপ লাল তালিকা (২০১৪ মূল্যায়ন) ও NOAA Fisheries
খুলে দেখার সূত্র
মজার তথ্য
বিভাগ ০১
বাংলা বর্ণমালা
পর্দায়স্লাইডার টানলে একেকটা বাংলা বর্ণ বড় হয়ে সামনে আসে, বাকিগুলো চারপাশে ঘুরতে থাকে।
নিচের যেকোনোটিতে ক্লিক করো - ডানে তার পুরো কথা খুলবে
এই ভুবনে তোমার যাত্রা সবে শুরু।
বাকি ১০টি ভুবন
বড়দের জন্য: পসরা পরিবার · স্কুলের জন্য · প্রশ্ন বা পরামর্শ
সবকিছু এক জায়গায়
ভাষা ভুবনের পুরো তালিকা
৮টি বিভাগ, ৭৪টি বিষয়। নিচের যেকোনো শিরোনামে চাপলে ছোট লেখাটা খুলবে। “মডেলে কাছে গিয়ে দেখো” চাপলে উপরের দৃশ্যে সেই বিষয়টি আলাদা করে বড় হবে।
বিভাগ ০১বাংলা বর্ণমালা ৮টি
স্লাইডার টানলে একেকটা বাংলা বর্ণ বড় হয়ে সামনে আসে, বাকিগুলো চারপাশে ঘুরতে থাকে।
অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔস্বরবর্ণ১১টি
অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ - এই এগারোটা বর্ণকে বলে স্বরবর্ণ, কারণ এগুলো একা উচ্চারণ করা যায়, অন্য বর্ণের সাহায্য লাগে না।
মজার তথ্যবাংলা স্বরবর্ণের ধ্বনি ইংরেজি ভাওয়েলের চেয়ে বেশি স্পষ্ট আর নির্দিষ্ট, তাই বাংলা পড়তে শিখলে উচ্চারণ প্রায় সবসময় বানানের সাথে মিলে যায়।
ক খ গ ঘ ঙকণ্ঠ্যবর্ণ
ক, খ, গ, ঘ, ঙ - এই পাঁচটা বর্ণকে বলে কণ্ঠ্যবর্ণ, কারণ এগুলো গলার গভীর থেকে উচ্চারিত হয়।
মজার তথ্য"ঙ" বর্ণটা একা শব্দের শুরুতে প্রায় ব্যবহৃতই হয় না, এটা সাধারণত অন্য বর্ণের সাথে যুক্ত হয়ে (যেমন বাংলা, রঙ) ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।
চ ছ জ ঝ ঞতালব্যবর্ণ
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ - এই পাঁচটা বর্ণকে বলে তালব্যবর্ণ, কারণ এগুলো জিভ মুখের তালুতে ঠেকিয়ে উচ্চারণ করা হয়।
মজার তথ্য"জ" আর "য" প্রায় একইরকম শোনালেও এদের লেখার নিয়ম আলাদা - বাংলা বানানে কোনটা ব্যবহার হবে তা শব্দের উৎস (তৎসম বা তদ্ভব) অনুযায়ী ঠিক হয়।
ট ঠ ড ঢ ণমূর্ধন্যবর্ণ
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ - এই পাঁচটা বর্ণকে বলে মূর্ধন্যবর্ণ, কারণ জিভ মুখের তালুর একটু পেছনের অংশে (মূর্ধায়) ঠেকিয়ে এগুলো উচ্চারিত হয়।
মজার তথ্যইংরেজি ভাষায় মূর্ধন্য আর দন্ত্য বর্ণের এই পার্থক্য নেই, তাই ইংরেজিভাষীদের জন্য বাংলার ট-ত বা ড-দ এর পার্থক্য উচ্চারণে শেখা প্রথমে একটু কঠিন মনে হতে পারে।
ত থ দ ধ নদন্ত্যবর্ণ
ত, থ, দ, ধ, ন - এই পাঁচটা বর্ণকে বলে দন্ত্যবর্ণ, কারণ জিভ সামনের দাঁতে ঠেকিয়ে এগুলো উচ্চারিত হয়।
মজার তথ্য"ন" বর্ণটা বাংলা বর্ণমালায় এত বেশি ব্যবহৃত হয় যে এটা প্রায় সব ধরনের শব্দে - বিশেষ্য, ক্রিয়া, সর্বনাম - খুঁজে পাওয়া যায়।
প ফ ব ভ মওষ্ঠ্যবর্ণ
প, ফ, ব, ভ, ম - এই পাঁচটা বর্ণকে বলে ওষ্ঠ্যবর্ণ, কারণ দুই ঠোঁট একসাথে বন্ধ করে এগুলো উচ্চারিত হয়।
মজার তথ্য"মা" শব্দটা প্রায় সব ভাষাতেই ঠোঁট দিয়ে উচ্চারিত একটা সহজ ধ্বনি দিয়ে গঠিত (ম), কারণ শিশুদের মুখে সবচেয়ে আগে যে ধ্বনিগুলো আসে তার একটা এই ওষ্ঠ্যধ্বনি।
য র ল শ ষ স হঅন্তঃস্থ ও উষ্মবর্ণ
য, র, ল, শ, ষ, স, হ - এই বর্ণগুলোর প্রতিটার উচ্চারণের ধরন আলাদা, একসাথে এরা বাংলার বাকি ব্যঞ্জনবর্ণ সম্পূর্ণ করে।
মজার তথ্যশ, ষ, স - তিনটে বর্ণ একই রকম শোনানোর কারণে বাংলা বানানে এই তিনটে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়, এমনকি অভিজ্ঞ লেখকদেরও মাঝেমধ্যে অভিধান দেখে নিশ্চিত হতে হয়।
ড় ঢ় য় ৎ ং ঃ ঁবিশেষ বর্ণ ও চিহ্ন
ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ - এগুলো বাংলার কিছু বিশেষ বর্ণ ও ধ্বনি-চিহ্ন, যাদের উচ্চারণ ও ব্যবহার একটু ভিন্ন নিয়ম মেনে চলে।
মজার তথ্যচন্দ্রবিন্দু (ঁ) শব্দকে নাকি স্বরে উচ্চারণ করায় - "চাদ" আর "চাঁদ" লেখা প্রায় একই রকম দেখতে হলেও উচ্চারণ ও অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিভাগ ০২কার, ফলা ও যুক্তবর্ণ ১৪টি
স্লাইডার টানলে একেকটা যুক্তবর্ণ (ক্ষ, জ্ঞ, ন্ত...) বড় হয়ে সামনে আসে।
া ি ী ু ূ ৃ ে ৈ ো ৌকারস্বরবর্ণের যুক্ত রূপ
কার হলো স্বরবর্ণের সেই রূপ, যা ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় - যেমন "ক" এর সাথে "আ" যুক্ত হলে হয় "কা"।
মজার তথ্য"ি" কার লেখা হয় বর্ণের বাম পাশে, কিন্তু উচ্চারণ করা হয় বর্ণের পরে - এই "উল্টো" নিয়মটাই বাংলা শেখার প্রথম দিকে অনেক শিশুকে বিভ্রান্ত করে।
র-ফলার যুক্ত হওয়া
র-ফলা হলো র বর্ণের একটা বিশেষ যুক্ত রূপ, যা অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের নিচে বা পাশে ছোট করে জোড়া লাগে - যেমন "প্র" শব্দে।
মজার তথ্যর-ফলা লেখার আকৃতি সাধারণ "র" বর্ণের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখতে - এটা চিনতে না পারলে অনেক সাধারণ শব্দও পড়া কঠিন হয়ে যায়।
য-ফলায যুক্ত হওয়া
য-ফলা হলো য বর্ণের যুক্ত রূপ, যা অন্য বর্ণের সাথে জোড়া লেগে সাধারণত "-এ" এর মতো ধ্বনি তৈরি করে - যেমন "বিদ্যা" শব্দে।
মজার তথ্য"বিদ্যালয়" শব্দে দুটো ভিন্ন যুক্ত রূপ দেখা যায় - "দ্য" (দ + য-ফলা) - যা বাংলা যুক্তবর্ণের জটিল কিন্তু সুন্দর গঠন প্রকৃতি বোঝায়।
ব-ফলাব যুক্ত হওয়া
ব-ফলা হলো ব বর্ণের যুক্ত রূপ, যা অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের নিচে ছোট করে জোড়া লাগে - যেমন "স্বাধীন" শব্দে।
মজার তথ্য"বিশ্ব" শব্দে ব-ফলা আছে, আর এই শব্দটাই বাংলায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব-ফলাযুক্ত শব্দগুলোর একটা - বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বাস, স্বাস্থ্য এসবেও এই একই ধরনের যুক্তবর্ণ দেখা যায়।
ম-ফলাম যুক্ত হওয়া
ম-ফলা হলো ম বর্ণের যুক্ত রূপ, যা অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের নিচে জোড়া লাগে - যেমন "পদ্ম" শব্দে।
মজার তথ্য"আত্মা" শব্দে ম-ফলা আছে, আর এই শব্দটা বাংলা সাহিত্য ও দর্শনে এত বেশি ব্যবহৃত যে এই যুক্তবর্ণের সাথে অনেকের প্রথম পরিচয় এই শব্দ দিয়েই হয়।
ক্ষক+ষ
ক্ষ হলো ক আর ষ মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যার উচ্চারণ অনেকটা "ক্খ" এর মতো শোনায়।
মজার তথ্য"ক্ষুদিরাম" নামের মতো ঐতিহাসিক নামেও এই যুক্তবর্ণ আছে - ক্ষ এতটাই সাধারণ যে বাংলা পড়তে শেখার সময় এটাই সাধারণত প্রথম শেখা যুক্তবর্ণগুলোর একটা।
জ্ঞজ+ঞ
জ্ঞ হলো জ আর ঞ মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যার উচ্চারণ প্রমিত বাংলায় "গ্গ্" এর মতো শোনায়, যা এর লেখা থেকে অনুমান করা কঠিন।
মজার তথ্য"জ্ঞ" কে অনেকেই বাংলা যুক্তবর্ণের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন বলে মনে করেন, ঠিক এই কারণেই যে এর লেখা দেখে উচ্চারণ অনুমান করা প্রায় অসম্ভব।
ঙ্গঙ+গ
ঙ্গ হলো ঙ আর গ মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যার উচ্চারণ নাকি "ং" ধ্বনির সাথে "গ" মিলিয়ে হয়।
মজার তথ্য"সঙ্গীত" শব্দে এই যুক্তবর্ণটা আছে - গান-বাজনার প্রতি বাঙালির গভীর ভালোবাসাই যেন এই শব্দের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
ন্তন+ত
ন্ত হলো ন আর ত মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যা বাংলার অন্যতম বহুল ব্যবহৃত যুক্তবর্ণ।
মজার তথ্য"বসন্ত" শব্দটাতেই এই যুক্তবর্ণ আছে, যা বাংলা ঋতুচক্রের সবচেয়ে মনোরম ঋতুর নামের একটা অংশ হয়ে আছে।
স্থস+থ
স্থ হলো স আর থ মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যার উচ্চারণ "স্থ্" এর মতো শোনায়।
মজার তথ্য"সুস্থ" শব্দটা প্রতিদিনের কথাবার্তায় এত বেশি ব্যবহৃত হয় যে অনেকেই না জেনেই এই যুক্তবর্ণ প্রতিদিন লিখছেন বা বলছেন।
ষ্টষ+ট
ষ্ট হলো ষ আর ট মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যার উচ্চারণ "ষ্ট্" এর মতো শোনায়।
মজার তথ্য"কষ্ট" শব্দটা বাংলায় এতটাই ব্যবহৃত যে অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে সাধারণ শব্দগুলোর একটা - এই সাধারণ শব্দ দিয়েই অনেকে প্রথম ষ্ট যুক্তবর্ণ চেনেন।
হ্মহ+ম
হ্ম হলো হ আর ম মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যার উচ্চারণ প্রমিত বাংলায় "ক্খ্" এর কাছাকাছি শোনায়, যা লেখা থেকে বোঝা কঠিন।
মজার তথ্য"লক্ষ্মী" নামে দুটো যুক্তবর্ণ (ক্ষ আর হ্ম-এর কাছাকাছি একটা রূপ) একসাথে থাকায় এটা বাংলার সবচেয়ে জটিল বানানের নামগুলোর একটা হয়ে উঠেছে।
ন্ধন+ধ
ন্ধ হলো ন আর ধ মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যা "বন্ধু", "অন্ধ"-র মতো পরিচিত শব্দে পাওয়া যায়।
মজার তথ্যবন্ধুত্ব নিয়ে বাংলায় অসংখ্য গান, কবিতা আর ছড়া আছে, আর এই শব্দটার মূলেই আছে ন্ধ যুক্তবর্ণ - ভাষা আর সম্পর্কের এই মেলবন্ধন বেশ চমৎকার।
শ্রশ+র
শ্র হলো শ আর র-ফলা মিলে তৈরি একটা যুক্তবর্ণ, যা "শ্রম", "শ্রদ্ধা"-র মতো শব্দে পাওয়া যায়।
মজার তথ্য"শ্রম" শব্দটা কাজ ও পরিশ্রমের মর্যাদা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, আর এই একই মূল থেকে "শ্রমিক" শব্দটাও তৈরি হয়েছে, যা এই যুক্তবর্ণের সামাজিক গুরুত্বও দেখায়।
বিভাগ ০৩হাতের লেখা ৬টি
স্লাইডার টানলে একেকটা বাংলা বর্ণ বড় হয়ে সামনে আসে, বাকিগুলো চারপাশে ঘুরতে থাকে।
মাত্রা টানামাত্রাওপরের সরলরেখা
মাত্রা হলো বেশিরভাগ বাংলা বর্ণের ওপরে টানা একটা সরলরেখা, যা বর্ণগুলোকে একসাথে জুড়ে রাখে বলে মনে হয়।
মজার তথ্যবাংলা মুদ্রণে মাত্রাগুলো প্রায়ই একটা শব্দের সব বর্ণ জুড়ে একটানা দেখতে অনেকটা রেললাইনের মতো লাগে, যা বাংলা লিপির একটা সহজে চেনা যাওয়া বৈশিষ্ট্য।
বর্ণের স্ট্রোক ক্রমস্ট্রোক ক্রমকোন দিক থেকে শুরু
প্রতিটা বাংলা বর্ণ লেখার একটা নির্দিষ্ট ক্রম আছে - কোন অংশ আগে, কোনটা পরে টানতে হয় তার একটা প্রচলিত নিয়ম।
মজার তথ্যঅনেক শিক্ষক বাংলা বর্ণ শেখানোর সময় বাতাসে আঙুল দিয়ে বর্ণের আকৃতি আঁকিয়ে অভ্যাস করান, যাতে কাগজে লেখার আগেই সঠিক গতিপথ হাতে গেঁথে যায়।
কার বসানোসঠিক জায়গায় স্বরচিহ্ন
কার বসানো মানে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে সঠিক জায়গায় (আগে, পরে, ওপরে বা নিচে) স্বরচিহ্ন যুক্ত করে সম্পূর্ণ অক্ষর তৈরি করা।
মজার তথ্যবাংলায় স্বরচিহ্নের এই বিচিত্র অবস্থান (বাম, ডান, ওপর, নিচ) বিশ্বের অনেক ভাষার লিপির তুলনায় একটা অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা বাংলা লিপিকে দৃশ্যত সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
শব্দ লেখাবর্ণ জুড়ে শব্দ
একাধিক বর্ণ ও কার সঠিকভাবে পাশাপাশি জুড়ে সম্পূর্ণ একটা শব্দ লেখা শেখা বাংলা হাতের লেখার একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
মজার তথ্যছোটবেলায় প্রথম নিজের নাম বাংলায় সঠিকভাবে লিখতে পারার আনন্দ অনেক শিশুর কাছেই লেখালেখির প্রতি আগ্রহ তৈরির প্রথম বড় মুহূর্ত হয়ে থাকে।
বাক্য লেখাশব্দ জুড়ে বাক্য
একাধিক শব্দ সঠিক ক্রমে ও সঠিক ফাঁক রেখে লিখে একটা সম্পূর্ণ, অর্থবহ বাক্য তৈরি করা শেখা।
মজার তথ্যএকটা সম্পূর্ণ বাক্য নিজে থেকে লিখতে পারা একটা শিশুর জন্য বড় একটা অর্জন - এটাই ছোট ছোট বর্ণ শেখা থেকে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারার দিকে প্রথম বড় লাফ।
ছাপার যোগ্য পাতাপরিচ্ছন্ন লেখা
ছাপার যোগ্য পাতা মানে এমন পরিষ্কার, সুবিন্যস্ত হাতের লেখা, যা দেখতে প্রায় ছাপার বইয়ের মতো পরিপাটি লাগে।
মজার তথ্যবাংলাদেশে অনেক স্কুলে হাতের লেখার প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যেখানে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হাতের লেখার জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়।
বিভাগ ০৪শব্দভাণ্ডার ১২টি
শব্দের প্রতিটি দল তার নিজের ছবিতে - রঙের পটি, ফল, প্রাণী, পরিবার, পোশাক, যানবাহন, বিপরীত শব্দের দুই তির। স্লাইডার টানলে একেকটা সামনে আসে।
ছবি ও শব্দদেখে শেখা
ছবি দেখে তার নাম শেখা শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ ও প্রাচীন পদ্ধতিগুলোর একটা, বিশেষত ছোটদের জন্য।
মজার তথ্যপৃথিবীর প্রথম দিকের ছাপা অক্ষরজ্ঞান বইগুলোতেও ছবি ও শব্দ পাশাপাশি রাখার এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, যা শত শত বছর ধরে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
রংরঙের নাম
লাল, নীল, হলুদ, সবুজ - বাংলায় রঙের নাম শেখা প্রাথমিক শব্দভাণ্ডারের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ প্রতিদিনের কথাবার্তায় এগুলো খুব বেশি ব্যবহৃত হয়।
মজার তথ্যবাংলা পতাকার সবুজ ও লাল রং নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে - সবুজ বাংলার প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, লাল স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফলফলের নাম
আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা - বাংলাদেশের প্রচলিত ফলগুলোর নাম শেখা শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নিজের সংস্কৃতির সাথেও পরিচিত করায়।
মজার তথ্যবাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল - এই শব্দটা শিখলেই একজন শিক্ষার্থী শুধু ভাষা নয়, দেশের পরিচয়ের একটা অংশও জেনে ফেলে।
সবজিসবজির নাম
আলু, বেগুন, লাউ, কুমড়া - বাংলা সবজির নাম শেখা দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দভাণ্ডারের একটা অংশ।
মজার তথ্যএকই সবজি রান্নার পদ্ধতিভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে - যেমন কাঁচা কাঁঠাল "এঁচোড়" নামে পরিচিত, যা পাকা কাঁঠালের নাম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
প্রাণীপ্রাণীর নাম
বাঘ, হাতি, বিড়াল, কুকুর - প্রাণীর নাম শেখা শিশুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় শব্দভাণ্ডার বিষয়গুলোর একটা।
মজার তথ্যবাংলার অনেক ছড়া ও গল্পে প্রাণীরা প্রধান চরিত্র - এই শব্দগুলো শেখার সাথে সাথে শিশুরা পুরো একটা সাহিত্যিক জগতের সাথেও পরিচিত হয়ে যায়।
পরিবারপারিবারিক সম্পর্কের নাম
মা, বাবা, ভাই, বোন, দাদা, দাদি - পারিবারিক সম্পর্কের নাম শেখা একটা শিশুর প্রথম দিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দভাণ্ডার।
মজার তথ্যবাংলা পারিবারিক শব্দভাণ্ডারের এই বৈচিত্র্য দেখায় বাঙালি সমাজে পারিবারিক বন্ধন ও সম্পর্কের সূক্ষ্মতাকে ঐতিহ্যগতভাবে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শরীরের অংশদেহের নাম
মাথা, হাত, পা, চোখ, কান - শরীরের অংশের নাম শেখা শিশুদের নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
মজার তথ্যশরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে বাংলায় অনেক প্রবাদ প্রচলিত আছে - যেমন "মাথা ঠান্ডা রাখা" মানে শান্ত থাকা, যা শব্দের আক্ষরিক অর্থের বাইরেও একটা ভাবগত অর্থ বহন করে।
পোশাকপরিধেয় বস্তুর নাম
শাড়ি, পাঞ্জাবি, জামা, প্যান্ট - বিভিন্ন পোশাকের নাম শেখা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় একটা শব্দভাণ্ডার।
মজার তথ্যপহেলা বৈশাখে অনেকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক (লাল-সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি) পরেন, যা এই শব্দগুলোকে শুধু পোশাকের নাম নয়, একটা সাংস্কৃতিক উদযাপনের সাথেও যুক্ত করে।
যানবাহনযাতায়াতের বাহনের নাম
বাস, রিকশা, নৌকা, ট্রেন - বিভিন্ন যানবাহনের নাম শেখা দৈনন্দিন চলাফেরার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত একটা শব্দভাণ্ডার।
মজার তথ্যঢাকা শহরকে অনেক সময় "রিকশার শহর" বলা হয়, কারণ এখানে বিশ্বের যেকোনো শহরের চেয়ে বেশি রিকশা চলাচল করে বলে অনেক ভ্রমণ লেখক উল্লেখ করেছেন।
বিপরীত শব্দউল্টো অর্থের শব্দ
বিপরীত শব্দ মানে এমন দুটো শব্দ, যাদের অর্থ একদম উল্টো - যেমন বড়-ছোট, ভালো-খারাপ, দিন-রাত।
মজার তথ্যছোটদের অনেক শিক্ষামূলক ছড়া বিপরীত শব্দ শেখানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়, যেখানে ছন্দের মাধ্যমে জোড়া শব্দগুলো সহজে মনে থাকে।
সমার্থক শব্দকাছাকাছি অর্থের শব্দ
সমার্থক শব্দ মানে এমন একাধিক শব্দ, যাদের অর্থ প্রায় একই - যেমন সুন্দর, মনোরম, রূপবান - সবগুলোই সৌন্দর্য বোঝায়।
মজার তথ্যবাংলা ভাষায় সমার্থক শব্দের সংখ্যা এত বেশি যে এটাকে ভাষার সমৃদ্ধির একটা বড় প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয় - কবিতা ও সাহিত্যে এই বৈচিত্র্য বিশেষভাবে কাজে লাগে।
ধ্বনি-শব্দশব্দ অনুকরণকারী শব্দ
ধ্বনি-শব্দ (অনুকার শব্দ) হলো এমন শব্দ, যা কোনো আসল শব্দের ধ্বনি নকল করে তৈরি - যেমন "ঝমঝম" (বৃষ্টির শব্দ), "কড়কড়" (বাজের শব্দ)।
মজার তথ্যবাংলা কমিকস বা শিশুতোষ বইয়ে "দুম", "ঠাস", "ঝনঝন"-এর মতো ধ্বনি-শব্দ ব্যবহার করে ঘটনাকে আরও প্রাণবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়, ঠিক যেমন ইংরেজি কমিকসে "বুম" বা "ব্যাং" ব্যবহার হয়।
বিভাগ ০৫বাক্য ও ব্যাকরণ ১২টি
স্লাইডার টানলে একেকটা শব্দ বড় হয়ে সামনে আসে, বাকিগুলো চারপাশে ঘুরতে থাকে।
বাক্য গঠনঅর্থপূর্ণ শব্দসমষ্টি
বাক্য হলো একাধিক শব্দ একসাথে সাজিয়ে তৈরি করা একটা সম্পূর্ণ, অর্থবহ ভাব প্রকাশ - যেমন "আমি ভাত খাই"।
মজার তথ্যবাংলা ভাষায় ক্রিয়াপদ সাধারণত বাক্যের একদম শেষে বসে (ইংরেজির বিপরীত), যা বাংলা শেখা ইংরেজিভাষীদের জন্য প্রথমে একটু ভিন্ন মনে হতে পারে।
বিশেষ্যনামবাচক শব্দ
বিশেষ্য হলো এমন শব্দ, যা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা ভাবের নাম বোঝায় - যেমন "রহিম", "বই", "ঢাকা", "সততা"।
মজার তথ্যবাংলায় বিমূর্ত ধারণা (যেমন সততা, সাহস, ভালোবাসা) বোঝাতেও বিশেষ্য পদ ব্যবহৃত হয়, যা প্রমাণ করে ভাষা শুধু চোখে দেখা জিনিস নয়, অনুভূতিও প্রকাশ করতে পারে।
সর্বনামবিশেষ্যের বদলে ব্যবহৃত শব্দ
সর্বনাম হলো এমন শব্দ, যা বিশেষ্য পদের বদলে ব্যবহৃত হয়, যাতে একই নাম বারবার বলতে না হয় - যেমন আমি, তুমি, সে, এটা।
মজার তথ্যবাংলা ভাষার এই "তুই-তুমি-আপনি" ব্যবস্থা ইংরেজিতে নেই (যেখানে সবার জন্য শুধু "you"), যা বাংলা ভাষার সামাজিক সম্পর্ক প্রকাশের একটা বিশেষ সমৃদ্ধি।
বিশেষণগুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশক শব্দ
বিশেষণ হলো এমন শব্দ, যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, বৈশিষ্ট্য বা অবস্থা প্রকাশ করে - যেমন "সুন্দর ফুল", "লাল শাড়ি"।
মজার তথ্যএকজন ভালো লেখকের বিশেষণ ব্যবহারের দক্ষতাই প্রায়ই তার লেখাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয় - সঠিক বিশেষণ একটা সাধারণ বাক্যকেও জীবন্ত করে তুলতে পারে।
ক্রিয়াকাজ বোঝানো শব্দ
ক্রিয়া হলো এমন শব্দ, যা কোনো কাজ করা বা কোনো অবস্থা বোঝায় - যেমন "খায়", "যায়", "হয়"।
মজার তথ্যবাংলা ক্রিয়াপদ বাক্যের একদম শেষে বসার নিয়মের কারণে বাংলা বাক্যের আসল অর্থ প্রায়ই একদম শেষ শব্দ পর্যন্ত না শুনলে সম্পূর্ণ বোঝা যায় না।
অব্যয়অপরিবর্তনীয় সংযোজক শব্দ
অব্যয় হলো এমন শব্দ, যার রূপ কখনো পরিবর্তন হয় না আর এটা প্রায়ই দুটো শব্দ বা বাক্যকে জোড়া দিতে ব্যবহৃত হয় - যেমন "এবং", "কিন্তু", "যদি"।
মজার তথ্য"যদি" আর "তবে" - এই দুটো অব্যয় একসাথে ব্যবহার করে শর্তসাপেক্ষ বাক্য তৈরি করা হয় ("যদি বৃষ্টি হয়, তবে আমি ছাতা নেব"), যা যুক্তি প্রকাশের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগত হাতিয়ার।
লিঙ্গপুরুষ-স্ত্রী ভেদ
লিঙ্গ বলে দেয় কোনো বিশেষ্য পদ পুরুষবাচক, স্ত্রীবাচক নাকি ক্লীববাচক (নির্দিষ্ট লিঙ্গ নেই) - যেমন ছেলে (পুরুষ), মেয়ে (স্ত্রী), বই (ক্লীব)।
মজার তথ্যকিছু পেশার নাম আগে শুধু পুরুষবাচক রূপে প্রচলিত ছিল (যেমন "শিক্ষক"), কিন্তু ভাষার বিবর্তনে এখন এই শব্দগুলো লিঙ্গনিরপেক্ষভাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
বচনএকবচন-বহুবচন
বচন বলে দেয় কোনো বিশেষ্য একটা জিনিস (একবচন) নাকি একাধিক জিনিস (বহুবচন) বোঝাচ্ছে - যেমন "বই" (একবচন), "বইগুলো" (বহুবচন)।
মজার তথ্য"গুলো" আর "গণ" দুটোই বহুবচন বোঝালেও ব্যবহারের প্রসঙ্গ আলাদা - "গণ" সাধারণত সম্মানসূচক ব্যবহারে (যেমন "শিক্ষকগণ"), "গুলো" সাধারণ বস্তুর জন্য ব্যবহৃত হয়।
কালসময় নির্দেশক ক্রিয়ারূপ
কাল বলে দেয় কোনো কাজ কখন ঘটেছে বা ঘটবে - অতীত ("খেয়েছিলাম"), বর্তমান ("খাচ্ছি") নাকি ভবিষ্যৎ ("খাব")।
মজার তথ্যগল্প বলার সময় বাংলায় প্রায়ই বর্তমান কাল ব্যবহার করে অতীতের ঘটনা বর্ণনা করার একটা প্রচলিত রীতি আছে ("সে তখন হাঁটছে, হঠাৎ দেখে..."), যা গল্পকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
কারকক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক নির্ণয়
কারক বলে দেয় বাক্যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদটার ক্রিয়ার সাথে ঠিক কী সম্পর্ক - যেমন কর্তা কাজটা করছে, কর্ম কাজের লক্ষ্য।
মজার তথ্যকারক ব্যবস্থার কারণেই বাংলা বাক্যে শব্দের ক্রম কিছুটা স্বাধীনভাবে বদলানো গেলেও অর্থ ঠিক থাকে, কারণ বিভক্তিই মূলত বলে দেয় কোন শব্দের কী ভূমিকা।
বানান নিয়মসঠিক বানানের ভিত্তি
বানান নিয়ম হলো একটা শব্দ কীভাবে সঠিকভাবে লেখা হবে তার প্রচলিত ও স্বীকৃত পদ্ধতি, যা সবার জন্য একই রকম বোঝা নিশ্চিত করে।
মজার তথ্যসময়ের সাথে সাথে কিছু বানান নিয়ম সহজ করা হয়েছে (যেমন কিছু জটিল সংস্কৃত বানানকে সহজ রূপে গ্রহণ), যা দেখায় ভাষা ও তার নিয়ম স্থির নয়, ধীরে ধীরে বিবর্তিত হতে থাকে।
যতিচিহ্নবিরতি ও ভাব প্রকাশক চিহ্ন
যতিচিহ্ন হলো দাঁড়ি (।), কমা (,), প্রশ্নবোধক (?) এর মতো চিহ্ন, যা লেখায় বিরতি বা বিশেষ ভাব প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
মজার তথ্যবাংলায় দাঁড়ি (।) ইংরেজির ফুল স্টপের (.) মতো একই কাজ করলেও দেখতে সম্পূর্ণ ভিন্ন - এটা বাংলা লিপির নিজস্ব একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
বিভাগ ০৬ছড়া, কবিতা ও গল্প ৮টি
স্লাইডার টানলে একেকটা শব্দ বড় হয়ে সামনে আসে, বাকিগুলো চারপাশে ঘুরতে থাকে।
আয় আয় চাঁদ মামাঘুম পাড়ানি ছড়া
"আয় আয় চাঁদ মামা" বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও পরিচিত একটা ছড়া, যা প্রায় প্রতিটা বাঙালি শিশু শৈশবে শোনে।
মজার তথ্যবাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা পরিবারে মা-নানি-দাদিরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই একই ছড়া গেয়ে শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে আসছেন।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুরঋতুভিত্তিক ছড়া
"বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর" বর্ষাকাল নিয়ে লেখা একটা জনপ্রিয় বাংলা ছড়া, যেখানে বৃষ্টির শব্দকে "টাপুর টুপুর" ধ্বনি দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
মজার তথ্যবর্ষাকালে বৃষ্টি পড়া শুরু হলে এখনো অনেক শিশু স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ছড়া আওড়াতে শুরু করে, যা দেখায় ছড়া কতটা গভীরভাবে সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে গেঁথে আছে।
আতা গাছে তোতা পাখিকল্পনাপ্রবণ ছড়া
"আতা গাছে তোতা পাখি" বাংলার একটা জনপ্রিয় ছড়া, যেখানে সহজ শব্দ আর মজার ছন্দে একটা কল্পনাপ্রবণ দৃশ্য আঁকা হয়েছে।
মজার তথ্যএই ছড়ার সহজ ছন্দ আর মিল এতটাই আকর্ষণীয় যে অনেক শিশু বাংলা বর্ণমালা শেখার আগেই মুখস্থভাবে পুরো ছড়াটা বলতে পারে।
সুকুমার রায়হাস্যরসাত্মক শিশুসাহিত্যিক
সুকুমার রায় বাংলা শিশুসাহিত্যের একজন প্রখ্যাত লেখক, যিনি তাঁর অদ্ভুত, হাস্যরসাত্মক ছড়া ও গল্পের জন্য বিখ্যাত।
মজার তথ্যসুকুমার রায় বিখ্যাত সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের বাবা ছিলেন, এবং পরিবারের সাহিত্যিক ও শৈল্পিক প্রতিভা দুই প্রজন্ম ধরে বাংলা সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব রেখেছে।
রবীন্দ্রনাথবিশ্বকবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবি, লেখক ও সংগীতস্রষ্টা, যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
মজার তথ্যরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া প্রথম এশীয় ব্যক্তি, যা সেই সময় সারা এশিয়া জুড়ে গর্বের একটা বিষয় হয়ে উঠেছিল।
নজরুলবিদ্রোহী কবি
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি, যিনি তাঁর বিদ্রোহী ও দেশপ্রেমমূলক কবিতার জন্য বিখ্যাত।
মজার তথ্যকাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছে, এবং তাঁর জন্মবার্ষিকী দেশজুড়ে বিশেষভাবে পালিত হয়।
লোককাহিনিমুখে মুখে চলা গল্প
লোককাহিনি হলো এমন গল্প, যা লেখকের নাম নির্দিষ্ট না থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুখে মুখে চলে এসেছে, যা একটা সমাজের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ প্রতিফলিত করে।
মজার তথ্যঅনেক লোককাহিনি এত পুরনো যে এর প্রকৃত উৎস কোথায়, কে প্রথম বলেছিল তা এখন আর নির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব নয় - এটাই লোককাহিনিকে "সবার গল্প" করে তোলে।
ঠাকুরমার ঝুলিরূপকথার সংকলন
"ঠাকুরমার ঝুলি" বাংলা লোককাহিনি ও রূপকথার একটা বিখ্যাত সংকলন, যেখানে রাজা-রানি, রাক্ষস-খোক্কস আর জাদুকরী ঘটনার গল্প আছে।
মজার তথ্য"ঠাকুরমার ঝুলি"র নামটাই একটা রূপক - দাদি বা নানির কাছে জমা থাকা গল্পের ভাণ্ডার, যা প্রতিটা বাঙালি পরিবারের একটা পরিচিত সাংস্কৃতিক দৃশ্য।
বিভাগ ০৭ইংরেজি সেতু ৮টি
স্লাইডার টানলে একেকটা ইংরেজি অক্ষর বড় হয়ে সামনে আসে।
A–ZA-Zইংরেজি বর্ণমালা
ইংরেজি বর্ণমালায় ২৬টা বর্ণ আছে - A থেকে Z পর্যন্ত, যা বাংলার মতোই ভাষার লেখার মূল ভিত্তি।
মজার তথ্যইংরেজি বর্ণমালার উৎপত্তি প্রাচীন ফিনিশীয় লিপি থেকে, যা পরে গ্রিক ও রোমান লিপির মধ্য দিয়ে আজকের রূপে এসে পৌঁছেছে - এটাই দেখায় ভাষার লিপি কীভাবে সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়।
ফনিক্সশব্দ থেকে অক্ষর শেখা
ফনিক্স হলো এমন একটা পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটা অক্ষরের ধ্বনি শিখিয়ে সেই ধ্বনি জোড়া দিয়ে শব্দ পড়তে শেখানো হয়।
মজার তথ্যইংরেজিতে "though", "through", "tough" - এই তিনটে শব্দে "ough" একই বানান থাকলেও উচ্চারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা ইংরেজি ভাষার একটা বিখ্যাত জটিলতা এবং ফনিক্স শেখার একটা চ্যালেঞ্জ।
দৈনন্দিন শব্দরোজকার ইংরেজি শব্দ
দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সাধারণ ইংরেজি শব্দ (যেমন hello, thank you, water) শেখা ভাষা শেখার প্রথম ও সবচেয়ে ব্যবহারিক ধাপ।
মজার তথ্যইংরেজি এখন বিশ্বের অনেক দেশে বাণিজ্য, প্রযুক্তি আর আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সাধারণ ভাষা হয়ে উঠেছে, তাই এই ভাষার প্রাথমিক শব্দভাণ্ডার শেখা বিশ্বের সাথে সংযুক্ত হওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ সেতু।
সংখ্যাইংরেজি সংখ্যা
ইংরেজিতে সংখ্যা (one, two, three...) শেখা গণনা আর দৈনন্দিন হিসাবের জন্য অত্যন্ত ব্যবহারিক একটা শব্দভাণ্ডার।
মজার তথ্যঅনেক ভাষায় সংখ্যা গণনার পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক প্রভাব দেখা যায় - ইংরেজি "eleven" ও "twelve" শব্দ দুটোর মূল অর্থ আসলে "এক অবশিষ্ট" আর "দুই অবশিষ্ট" (দশের পরে), যা পুরনো গণনা পদ্ধতির নিদর্শন।
রংইংরেজি রঙের নাম
ইংরেজিতে রঙের নাম (red, blue, green) শেখা প্রাথমিক শব্দভাণ্ডারের একটা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহারিক অংশ।
মজার তথ্যবিভিন্ন ভাষায় রঙের নামের সীমানা একটু ভিন্নভাবে টানা হয় - যেমন কিছু ভাষায় নীল আর সবুজের মধ্যে যে পার্থক্য বাংলা-ইংরেজিতে আছে, তা নেই, যা ভাষা ও উপলব্ধির একটা আকর্ষণীয় সম্পর্ক দেখায়।
বাংলা ↔ ইংরেজিদুই ভাষার সেতু
বাংলা ও ইংরেজি শব্দ পাশাপাশি রেখে শেখা দুই ভাষার মধ্যে একটা সরাসরি মানসিক সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে।
মজার তথ্যবাংলাদেশে অনেক শিশু ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই পড়াশোনা করে বড় হয়, যা তাদের ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে একটা বড় সুবিধা দেয়।
সহজ বাক্যপ্রাথমিক ইংরেজি বাক্য
সহজ ইংরেজি বাক্য (যেমন "I am fine", "What is your name?") শেখা মৌলিক কথোপকথনের ভিত্তি তৈরি করে।
মজার তথ্যবিশ্বব্যাপী ইংরেজি শেখানোর সময় সাধারণত "Hello, how are you?" - এই বাক্যটাই সবচেয়ে বেশি প্রথমে শেখানো হয়, যা প্রায় সর্বজনীন একটা ইংরেজি শেখার সূচনা বাক্য হয়ে উঠেছে।
সম্ভাষণঅভিবাদনের ভাষা
সম্ভাষণ মানে কাউকে দেখা হলে বা বিদায় নেওয়ার সময় ব্যবহৃত ভদ্র শব্দ, যেমন ইংরেজিতে "Good morning", "Goodbye"।
মজার তথ্যবিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে সম্ভাষণের ভিন্ন ভিন্ন রীতি আছে - কিছু সংস্কৃতিতে হাত মেলানো, কিছুতে মাথা নত করা প্রচলিত, যা দেখায় ভাষার সাথে সংস্কৃতিও কতটা নিবিড়ভাবে জড়িত।
বিভাগ ০৮ভাষার গল্প ৬টি
স্লাইডার টানলে স্মৃতিসৌধ ঘুরে যায়, সূর্য ওঠা-নামা করে।
ভাষা আন্দোলনমাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম
ভাষা আন্দোলন ছিল ১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (আজকের বাংলাদেশ) হওয়া একটা ঐতিহাসিক আন্দোলন।
মজার তথ্যবিশ্বের ইতিহাসে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা নিজের মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়ে সংগ্রাম করেছে, আর সেই আত্মত্যাগই পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
একুশে ফেব্রুয়ারিরক্তক্ষয়ী দিন
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বাংলা ভাষার দাবিতে বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়, যাতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন।
মজার তথ্যএকুশে ফেব্রুয়ারিকে স্মরণ করে বাংলাদেশে প্রতি বছর এই দিনে খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটা গভীর আবেগময় রীতি প্রচলিত আছে।
শহীদ মিনারআত্মত্যাগের স্মৃতিসৌধ
শহীদ মিনার হলো ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটা স্মৃতিসৌধ, যা বাংলাদেশের প্রতিটা শহর ও গ্রামে বিভিন্ন আকারে দেখা যায়।
মজার তথ্যপ্রতিটা স্কুলেও প্রায়ই একটা ছোট শহীদ মিনার থাকে, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠে।
বাংলা লিপির ইতিহাসবর্ণমালার উৎপত্তি
বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়ে আজকের রূপ পেয়েছে, যা কয়েক হাজার বছরের একটা দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে।
মজার তথ্যবাংলা লিপি এতটাই সুন্দর ও শৈল্পিক যে এটাকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর লিপিগুলোর একটা হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষত এর গোলাকার বক্ররেখার কারণে।
আঞ্চলিক ভাষাউপভাষার বৈচিত্র্য
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রমিত বাংলার পাশাপাশি নিজস্ব আঞ্চলিক উপভাষা প্রচলিত আছে, যেমন চট্টগ্রামের, সিলেটের বা বরিশালের ভাষা।
মজার তথ্যসিলেটি ভাষার নিজস্ব একটা পুরনো লিপি (সিলেটি নাগরী) ছিল, যা প্রমিত বাংলা লিপি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যদিও এখন এই লিপির ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসবিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়, যা জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত।
মজার তথ্যইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে এই দিবস ঘোষণা করে, যা বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল গর্বের বিষয় - একটা জাতীয় আত্মত্যাগ কীভাবে সারা বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠতে পারে তার একটা অনন্য উদাহরণ।