পসরা / লেখা / পদার্থ, পরমাণু ও বিক্রিয়া
পদার্থ, পরমাণু ও বিক্রিয়া
পদার্থের অবস্থা: কঠিন, তরল, গ্যাস ও প্লাজমা
সরাসরি উত্তর
কঠিন, তরল, গ্যাস ও প্লাজমা পদার্থের অবস্থা; কণাগুলোর বিন্যাস, চলাচল ও শক্তি বদলালে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যেতে পারে। গলন, বাষ্পীভবন, ঘনীভবন ও জমাট বাঁধা পরিচিত পরিবর্তন। সাধারণ অবস্থায় বরফ, তরল পানি ও জলীয় বাষ্প সবই H₂O।
একই জিনিস তিন অবস্থায় থাকতে পারে। পানি বরফ হতে পারে, আবার বাষ্প হতে পারে - কিন্তু তিনটেই পানি, একই অণু দিয়ে গড়া।
পার্থক্যটা অণুর সাজানোয় আর তাদের নড়াচড়ায়, উপাদানে নয়।
🧠পড়তে পড়তে নিজেকে যাচাই করোপদার্থের অবস্থা কয়টি?উত্তর দেখো
সাধারণভাবে তিনটি: কঠিন, তরল ও গ্যাস। প্লাজমাকে চতুর্থ অবস্থা ধরা হয়, আর মহাবিশ্বের বেশিরভাগ দৃশ্যমান পদার্থই আসলে প্লাজমা।
তিন অবস্থা, অণুর চোখে
কঠিন পদার্থে অণুগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় শক্ত করে বাঁধা, শুধু নিজের জায়গায় কাঁপে। তাই কঠিনের নিজস্ব আকার আছে, নিজস্ব আয়তনও আছে।
তরলে অণুগুলো কাছাকাছি থাকে কিন্তু একে অন্যের পাশ দিয়ে গড়াতে পারে। তাই আয়তন নির্দিষ্ট, কিন্তু আকার পাত্রের।
গ্যাসে অণুগুলো অনেক দূরে দূরে আর প্রচণ্ড গতিতে ছোটে। আকারও নেই, আয়তনও নেই - যে পাত্রে রাখবে তার পুরোটাই ভরে ফেলবে।
প্লাজমা চতুর্থ অবস্থা: এত গরম যে পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ছিটকে যায়। সূর্য আর সব তারা প্লাজমা দিয়ে গড়া, আর বজ্রপাতের ঝলকও তাই।
অবস্থার পরিবর্তন
গলন: কঠিন থেকে তরল। তাপ পেয়ে অণুর কাঁপুনি এত বাড়ে যে বাঁধন আলগা হয়ে যায়। বরফ ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গলে।
স্ফুটন: তরল থেকে গ্যাস, পুরো তরল জুড়ে। পানি ১০০ ডিগ্রিতে ফোটে, তবে উঁচু পাহাড়ে বাতাসের চাপ কম বলে তার আগেই ফোটে।
বাষ্পীভবন: তরল থেকে গ্যাস, কিন্তু শুধু উপরের পৃষ্ঠ থেকে আর যেকোনো তাপমাত্রায়। ভেজা কাপড় রোদে শুকায় এভাবেই, ফোটাতে হয় না।
ঘনীভবন: গ্যাস থেকে তরল। ঠান্ডা গ্লাসের গায়ে জমা বিন্দু, বা আকাশের মেঘ - দুটোই ঘনীভবন।
ঊর্ধ্বপাতন: কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাস, তরল হওয়ার ধাপ বাদ দিয়ে। কর্পূর এভাবেই মিলিয়ে যায়, আর শুকনো বরফও।
গলনের সময় তাপমাত্রা বাড়ে না কেন
বরফে তাপ দিতে থাকলে তাপমাত্রা ০ ডিগ্রিতে পৌঁছে থেমে যায়, আর পুরো বরফটা না গলা পর্যন্ত আর বাড়ে না।
কারণ ওই সময়ে তাপটা তাপমাত্রা বাড়াতে খরচ হচ্ছে না, খরচ হচ্ছে অণুর বাঁধন ভাঙতে। একে বলে সুপ্ত তাপ।
এই কারণেই বরফ দেওয়া পানি অনেকক্ষণ ঠান্ডা থাকে: বরফ গলার সময় চারপাশ থেকে তাপ টেনে নিতে থাকে।
ঘনত্ব: একই আয়তনে কতটা ভর
ঘনত্ব = ভর ÷ আয়তন। এক কেজি তুলা আর এক কেজি লোহার ভর সমান, কিন্তু তুলার আয়তন অনেক বেশি, তাই ঘনত্ব কম।
কোনো জিনিস তরলে ভাসবে না ডুববে, সেটা ঘনত্ব দিয়েই ঠিক হয়। তেল পানির চেয়ে হালকা বলে উপরে ভাসে।
পানির একটা অস্বাভাবিক গুণ আছে: বরফ পানির চেয়ে হালকা। তাই বরফ ভাসে, আর শীতের দেশে পুকুরের উপরটা জমে গেলেও নিচে মাছ বেঁচে থাকে। বেশিরভাগ পদার্থে কঠিন অবস্থাটাই ভারী হয়।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
পদার্থের অবস্থা কয়টি?
সাধারণভাবে তিনটি: কঠিন, তরল ও গ্যাস। প্লাজমাকে চতুর্থ অবস্থা ধরা হয়, আর মহাবিশ্বের বেশিরভাগ দৃশ্যমান পদার্থই আসলে প্লাজমা।
বাষ্পীভবন আর স্ফুটনের পার্থক্য কী?
বাষ্পীভবন শুধু তরলের উপরের পৃষ্ঠ থেকে হয় আর যেকোনো তাপমাত্রায় হতে পারে। স্ফুটন হয় পুরো তরল জুড়ে আর একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়।
ঊর্ধ্বপাতন কাকে বলে?
কঠিন পদার্থ তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হওয়া। কর্পূর আর ন্যাপথলিন এভাবেই মিলিয়ে যায়।
এবার নিজে নেড়ে দেখো
আরও যাচাই করে পড়ো
নিচের সূত্রগুলো বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। জরুরি, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য স্থানীয় সরকারি নির্দেশও দেখো।
- American Chemical Society – স্কুলবয়সী রসায়ন – প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের রসায়ন পাঠ, পরীক্ষা ও নিরাপদ অনুসন্ধান।